কয়েক বছরেও যেখানে কোনো চেকপোস্ট দেখা যায়নি সেখানে প্রতি রাতেই এখন পুলিশি চেকপোস্ট। অন্ধকারের মধ্যে পুলিশ যানবাহন থামিয়ে তা তল্লাশি করে। ওই চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশের এক সদস্য বললেন, আগের চেয়ে একটু কড়া নির্দেশনা রয়েছে। পুলিশের কয়েক কর্মকর্তা বলেছেন, বিরোধী দলের আন্দোলন যত জোরদার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ততই সক্রিয় হচ্ছে। আন্দোলনকে ঘিরে প্রয়োজনে তারা কঠোর হবে। এদিকে, দেশজুড়ে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও গুপ্ত গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে। গ্রেফতারের পর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে জেল খানায়। এমনকি, জেলখানায়ও শুরু হয়েছে কঠোর নজরদারি। রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতারকৃত কারো সাথে সহজে চাইলেই কেউ দেখা করতে পারছেন না।
সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেয়া হয় ঢাকা মহানগর উত্তর ৫২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিককে (৩৯)। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে যোগাযোগ করেও আবু বকরের কোনো সন্ধান মেলাতে না পেরে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু দায়সারা গোছের ওই সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করতে হয় আবু বকর নিখোঁজ হয়েছে। আবু বকরের স্ত্রী রুবিনা আক্তার এই সাধারণ ডায়েরিটি করেন। তিন দিন পর পরিবারের লোকজন তার খোঁজ পায় জেলখানায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পল্টন থানার ২০২২ সালের একটি মামলায় আবু বকরকে গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া রিপনকে (৫১) একই কায়দায় তুলে নেয়ার পর তিন দিন পর তার খোঁজ পাওয়া যায় জেলখানায়। এমন আরো অনেককে তুলে নেয়ার পর জেলখানায় খুঁজে পাওয়ার খবর রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারবিরোধী আন্দোলন যত জোরদার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ততই কঠোর হচ্ছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নেয়া আগের তুলনায় বেড়েছে। কোনো মামলার আসামি নন এমন নেতাকর্মীদের বাড়িতেও ঢু মারছে পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাতিরঝিল এলাকার এক বিএনপি কর্মী বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তারপরও পুলিশ কয়েক দফায় তার বাড়িতে গিয়েছে খোঁজ খবর নেয়ার জন্য। এখন তিনি আতঙ্কে আছেন। এদিকে, পুলিশ দেশজুড়ে গ্রেফতার অভিযানও জোরদার করেছে। প্রত্যন্ত গ্রামেও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক নেতাকর্মী বলেছেন, মিছিল-মিটিংয়ে এখন প্রকাশ্যে বাধা না দিলেও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা যাতে শান্তিতে বাড়িতে ঘুমাতে না পারে সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জেলখানাতেও কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদেরকে। কারাগারের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, যেসব কারাগারে বিরোধী দলের নেতাকর্মী রয়েছে তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখার নির্দেশ রয়েছে। নেতাকর্মীরা যেসব সেলে অবস্থান করেন তার কোনো কোনো সেলের সামনে সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয় ওই নেতাকর্মীদের মুভমেন্ট। এমনকি, তাদের সাথে আত্মীয়-স্বজনকেও দেখা করতে দেয়া হয় না বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো নেতাকর্মীকে রুমের বাইরে পর্যন্ত বের হতে দেয়া হয় না এমন খবরও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারা কর্মকর্তা বলেছেন, কোনো কোনো নেতাকর্মীর সার্বক্ষণিক মুভমেন্ট বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মনিটরিং করছে।



