২৮ অক্টোবর বিএনপির মহা সমাবেশ ঘিরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। ইতোমধ্যে সমাবেশ ঘিরে সারা দেশে শুরু হয়েছে গ্রেফতার অভিযান। বিএনপি দাবি করেছে, গত কয়েক দিনে সারা দেশে ৬০০র অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতর ও ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে কোনো রকম যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে এ জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। শুধু রাজধানীর প্রবেশদ্বারগুলোতে মোতায়েন থাকবে ১০ হাজারের অধিক পুলিশ। এ ছাড়া পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশের দাঙ্গা দমন বিভাগ, সোয়াট টিম, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল মাঠে থাকবে। এ ছাড়া সহিংস ঘটনা এড়াতে থাকবে পুলিশের সাঁজোয়া যান, জল কামান, কাঁদানে গ্যাসসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি।
এ দিকে সমাবেশ ঘিরে ইতোমধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। গত রোববার রাতেও রাজধানীতে বিএনপির অন্তত ৩০ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল সোমবার দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।
বিএনপি দাবি করেছে গত কয়েক দিনে সমাবেশ ঘিরে পুলিশ ৬ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন, বিএনপির মহাসমাবেশ সামনে রেখে পুলিশ দিনে ও রাতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দিচ্ছে এবং বিএনপি নেতা-কর্মীদের পরিবার এবং সাধারণ মানুষকে প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করছে।
জানা গেছে, গত রোববার রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও খিলগাঁও থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইউনুস মৃধাসহ বিএনপির ৩০ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস মৃধাকে রোববার রাতে গতকাল এবং ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষকদলের আহ্বায়ক আসজাদুল আরিশ ডলকে গত ২১ অক্টোবর গ্রেফতার করে পুলিশ। একই দিনে সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন বাবলুকে মতিঝিল পানির ট্যাংকির সামনে থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
২২ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আওতাধীন কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপি নেতা মো: আকরাম, মো: আনোয়ার হোসেন, চকবাজার থানা বিএনপি নেতা মো: মাইদুল, মো: আমীর হোসেন, ডেমরা থানাধীন ৭০ নং ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব শরীফ, শাহজাহানপুর থানাধীন ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা পিন্টু, ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হলুদ মিয়া, বিল্লাল হোসেন, ৭৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: এলিম হোসেন, খিলগাঁও থানাধীন ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি সালেহ মোহাম্মদ খোকন, ইলিয়াস আলী, ৭৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি মো: নাজিম উদ্দীন, ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ইব্রাহিম হকি, মতিঝিল থানার ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য বকুল মিয়া, বংশাল থানাধীন ৩২ নং ওয়ার্ডের কসাটুলি ইউনিট বিএনপির সভাপতি জাবেদ, কাটরা ইউনিটের সহসভাপতি মো: জাহাঙ্গীর, হাজারীবাগ থানাধীন ২২ নং মনেশ^র ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো: হারুন, ভাগলপুর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, সদস্য আলমগীর হোসেন, সবুজবাগ থানাধীন ৭৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি নুরুজ্জামান, ঢাকা মহানগর উত্তরের বাড্ডা থানা কৃষকদলের আহ্বায়ক কাজী তুষার, ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন, গুলশান থানা বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন খান, তেজগাঁও থানার ২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, মোহাম্মদপুর থানার ৩৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মান্নান হোসেন শাহীন ও আদাবর থানার যুগ্ম সম্পাদক আজিজ শেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়া রোববার গুলশান থানাধীন নতুনবাজার এলাকা থেকে তুরাগ থানা বিএনপি নেতা রিপন ইসলাম, মো: মনির, উত্তরা থানা বিএনপি নেতা মো: সিদ্দিক, মো: মিজান, কামাল হোসেন, রমজান মার্কেট এলাকার সুমন, উত্তরা ৩ নং সেক্টরের বিএনপি নেতা হৃদয়, ১৩ নং সেক্টরের মাহবুব আলম, ১২ নং সেক্টরের মহসিন হাওলাদার ও জসিম উদ্দিনসহ মোট ১১ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
একই দিনে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: ইকবাল হোসেন, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদার উল্লাহ ভূঁইয়া, শহর যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন চৌধুরী সুমন, বিএনপি নেতা মো: আলী, সজিব ভূঁইয়া, ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম দোলন, রুবেল মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম পিয়াস, আল মামুন, ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের সদস্য মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও ৯৭ নং ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সভাপতি মো: রুহুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ ছাড়া রোববার মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় স্থানীয় পুলিশ গভীর রাতে নেতা-কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে লৌহজং উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান, সায়মন মাতুব্বর, সাইফুল মাতুব্বর, টঙ্গীবাড়ি উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি পিন্টু, সদস্য মিজান, বেপারী মিজান ও মিজান বেপারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও পৌর বিএনপির সদস্য ও যুবদল নেতা মো: হুমায়ুনকে চৈতি গার্মেন্টসের সামনে থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। একই দিনে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন থানায় গভীর রাতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালায় পুলিশ।
২১ অক্টোবর গুলশান ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো: ইকবাল হোসেনকে সুবাস্তু শপিংমলের উত্তর পাশে তৃপ্তি হোটেলের সামনে থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো: রাশেদুল ইসলাম রাব্বি প্রধান, ২ নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান ও ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
১৯ অক্টোবর ২০২৩ তারিখ মুন্সীগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: জাকির হোসেন, ফরিদপুর জেলাধীন মধুখালী উপজেলার সাধারণ সম্পাদক গালিব হাসান রিয়ন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: রাকিব মোল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
১৯ অক্টোবর পাবনা জেলাধীন সাথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মিঠুকে গ্রেফতার করে।
অবশ্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার ফারুক হোসেন বলেন, বিএনপির কত নেতাকর্মী কোন মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন, তা পরে জানানো হবে।



