‘আজ অল্প কিছু সময়ের জন্য অসুস্থ মেয়েটিকে দেখতে বাসায় গিয়েছিলাম। প্যান্ট চেঞ্জ করে কেন লুঙ্গি পরছি না বারবার ওর একই প্রশ্ন। ওকে অনেক বোঝালাম এবং বললাম আম্মু বাইরে চাকরি করলে তোমার আঙ্কেলরা টাকা দেয় আর সেই টাকা দিয়ে তোমার জন্য চকলেট এবং আপেল কিনে নিয়ে আসি। এ কথা শুনে চুপচাপ থাকলেও একটু পরে খুব করুণ কণ্ঠে বলল, বাবা রাতে আমার খুব ভয় করে তুমি পাশে না ঘুমালে। এ কথার উত্তর না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ওর কপোলে ও গালে দুটো চুমু দিয়ে বিদায় নিয়ে আসলাম। হায়রে, আওয়ামী রাজনীতি! আমার মতো কত লক্ষ লক্ষ বাবা নীরবে চোখের পানি ঝরাচ্ছে! মহান আল্লাহ পাক সব দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী যোদ্ধাদেরকে ধৈর্য ও সাহসিকতা দান করুন। আমিন।’
কথাগুলো নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি সরদার মো: নুরুজ্জামান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, এভাবে বিএনপি-জামায়াতসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নেতাকর্মী এখন ঘরছাড়া। গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানির ভয়ে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ দিকে দিন যত যাচ্ছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ততই কঠোর হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় বিরোধী নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চলছে।
গত ২৮ অক্টোবর বিএনপি ও জামায়াতের সমাবেশ কর্মসূচির আগে থেকেই শুরু হয়েছে গ্রেফতার অভিযান। দিন যত যাচ্ছে গ্রেফতারের সংখ্যা ততই বাড়ছে। এরই মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ সারির অনেক নেতাসহ কমপক্ষে ১০ হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। বিএনপি সূত্র বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ৪৯৬ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। মামলা হয়েছে ১৬টি। আসামি সংখ্যা এক হাজার ৭২৮ জনের অধিক। মহাসমাবেশের চার-পাঁচ দিন আগ থেকে গতকাল পর্যন্ত গ্রেফতার সংখ্যা আট হাজার ৯৫১ জনের অধিক। এর মধ্যে ২৮ অক্টোবর থেকে গ্রেফতার সংখ্যা আট হাজার ৭৪৫ জন। মামলার সংখ্যা ৫৪১টি। মোট আসামি ৪২ হাজার ৩৪৩ জন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যারা নতুন মামলায় আসামি হয়েছেন তাদেরকে সেসব মামলার সূত্র ধরে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। আর যাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা নেই তাদেরকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চলছে। পুরনো মামলায় অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানীর মানিকনগর এলাকার এক বিএনপি নেতা বলেছেন, তার বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সব জায়গাতেই নজরদারি করছে অজ্ঞাত লোকজন। তার ধারণা তাকে ধরার জন্য পুলিশ সোর্স লাগিয়েছে। ২৮ অক্টোবরের আগে থেকেই তিনি আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাকে খুঁজতে অনেক আত্মীয়স্বজনের বাড়িতেও পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে।
অপর এক নেতা বলেছেন, ফেরারি জীবনযাপন করছেন। রাজনীতি করতে এসে এমন করুণ পরিণতি হবে, তা ভাবতেও পারেননি। তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এ দিকে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, তারা বিভিন্ন মামলার আসামি ও গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছেন।



