দলে কোনো পদপদবি নেই। তবে পরিবারের সদস্যরা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। সে সূত্র ধরে বিএনপির একজন সমর্থক বলা যায় রাজিব হাসানকে (৩৬)। পদপদবি না থাকলেও গত ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনের সমাবেশে তার সরব উপস্থিতি ছিল। ওই সমাবেশকে ঘিরে ফেসবুক আর ইউটিউবে তার কিছু বক্তব্যও আছে। তার পরিবারের সদস্যরা কী অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাই নিয়ে বক্তব্য দেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সক্রিয়ভাবে দল না করেও তিনি নিজে যে গ্রেফতার হয়েছেন, জেল খেটেছেন তা নিয়েও সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

গত ৪ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন এই রাজিব। পেশায় ব্যবসায়ী রাজিবকে ওই দিন বিকেলে খিলগাঁওয়ের গোড়ানের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের লোকজন তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার কোনো সন্ধান নেই। পরিবারের সদস্যরা ডিবি পুলিশ, থানা পুলিশসহ সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজেও ব্যর্থ হয়েছেন। কোনো সন্ধান মিলছে না রাজিবের। পরিবারের কাছে রাজিবকে তুলে নেয়ার সময়ের সিসি ক্যামেরার দৃশ্য রয়েছে। ওই দৃশ্যে দেখা গেছে অজ্ঞাত পরিচয়ের কিছু লোক সিঁড়ি দিয়ে ওই বাসায় উঠছে। এরপর হ্যান্ডকাফ পরিয়ে রাজিবকে নিয়ে নামছে। রাজিবের বোন জেবা নয়া দিগন্তকে বলেন, ঘটনার সময় ওই আত্মীয়ের বাসায় আর কেউ ছিলেন না। রাজিব একাই ছিলেন। রাজিবকে আটক করে নেয়ার সময় দারোয়ানের কাছে বাসার চাবি রেখে যায় তারা। পরে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, অজ্ঞাত ওই লোকজন নিজেদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাসায় প্রবেশ করে। তারা রাজিবকে যখন নিচে নামিয়ে আনে ঠিক তখনই একটি কালো গ্লাসের মাইক্রোবাস বাসার গেটে এসে থামে। ওই গাড়িতে তুলে রাজিবকে অজ্ঞাত স্থানে নেয়া হয়।

জেবা বলেন, এরপর তারা সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজেও রাজিবের কোনো সন্ধান পাননি। তাদের বড় ভাই রাশেদ খিলগাঁও থানায় গিয়েছিলেন সাধারণ ডায়েরি দায়েরের জন্য। কিন্তু পুলিশ সাধারণ ডায়েরি রাখেনি। এখন পরিবারের সদস্যরা রাজিবের খোঁজে দিশেহারা।ওই পরিবার থেকে জানানো হয়েছে, তাদের এক ভাই যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। তাকে খুঁজতে এসে এর আগেও রাজিবকে একবার ধরে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এক বছর আগে এই ঘটনা ঘটে। তখন রাজিব কয়েক মাস জেল খাটেন। ওই সময় রাজিব বিএনপির সমর্থকও ছিলেন না। জেল থেকে বের হয়ে বিএনপির রাজনীতিকে সমর্থন করা শুরু করেন। তবে সক্রিয় ছিলেন না। নেই কোনো পদপদবি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজিবের পরিবারের প্রতি অনেক অন্যায় জুলুম হয়েছে। যে কারণে হয়তো নিজের তাগিদেই ২৮ অক্টোবরের বিএনপির সমাবেশে গিয়েছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজিব যদি কোনো অন্যায় করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে মামলা হোক। মামলায় তার জেল জরিমানা হোক। কিন্তু এভাবে নিখোঁজ করে রাখার বিষয়টি পরিবার মানতে পারছে না। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেও কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।