বগুড়ার শেরপুরে বিশালপুর ইউনিয়নে আব্দুল মতিন (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে ও মাথায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে ফসলের ক্ষেতে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি মান্দাইল গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে ও বিশালপুর ইউনিয়নের বিএনপির সক্রিয় সদস্য। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় মান্দাইল গ্রামের পূর্বপাড়া চরার মধ্যে সরিষা ক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পুত্রবধূ শাহানাজ খাতুন জানান, তার শাশুড়ি অসুস্থতার কারণে চার মাস ধরে শেরপুর শহরে মেয়ের বাসায় থাকেন। শ্বশুর গত ৭-৮ দিন রাতে নিয়মিত বাড়িতে থাকে না। বুধবার বেলা ১১টার দিকে শেরপুর থেকে বাড়িতে এসে শীতের জামাকাপড় নিয়ে চলে যান। বৃহস্পতিবার সকালে জানতে পারি চরার মধ্যে সদ্য রোপণকৃত সরিষা ক্ষেতে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। তাকে পিটিয়ে ও মাথায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত মতিনের চাচাতো ভাই জানান, সকালে ওই গ্রামের আব্দুল মোমিনের শ্রমিকরা ধান কাটতে গিয়ে দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় সরিষা ক্ষেতে তাকে ফেলে রেখে চলে গেছে। সেখানেই তিনি মারা গেছেন। তবু হাসপাতালে নেয়া হয়েছে যদি বেঁচে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, গত ১৫ নভেম্বর বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলার ৬৪ নম্বর আসামি তিনি। তাকে আসামি করাতে সেই দিন থেকে আর রাতে বাড়িতে থাকেন না। বুধবার সন্ধ্যায় বাজারে চা খেয়ে শেরপুরে যাওয়ার জন্য একটি ব্যাটারি চালিত অটো ভাড়া করেন। কিন্তু সেই সময় তাকে কে যেন মোবাইলে কল করলে একটু দেরি করে। দেরি হওয়াতে অটো চালক তাকে বাজারে রেখে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে তিনি বাজার থেকে চলে যান। সকালে শুনি মতিনের লাশ সরিষার জমিতে পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবু কুমার সাহা বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।



