আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার খবরে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে উত্তপ্ত অবস্থায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। আরসা সন্ত্রাসীরা গুলি করে মারছে সাধারণ রোহিঙ্গাদের। এরই মধ্যে তাদের প্রতিপক্ষ আরএসও ক্যাম্পে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আরসার শক্তি ও আধিপত্য জানান দিকে উভয় গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে চারজন নিহত হয়েছে। এরইমধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, গোলাগুলিতে খুন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে থাকা ক্যাম্পে যেকোনো সময় ফের আরো বড় ধরনের সঙ্ঘাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের কারণে ক্যাম্পে অস্থিরতা দিন দিন বাড়ছে।
মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীসহ সংগঠনটির ৪৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত সোমবার বান্দরবানের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালত এই আদেশ জারি করে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু কোনারপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদকবিরোধী অভিযানে ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা (স্কোয়াড্রন লিডার) রিজওয়ান রুশদী হত্যা মামলার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ শেষে আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে তদন্ত শেষে গত ১৫ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া জানান, ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা (স্কোয়াড্রন লিডার) রিজওয়ান রুশদী হত্যা মামলাঘটনার তদন্ত শেষে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
জানা যায়, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৩ জনকে আটক করেছে। অন্যদেরও আটকে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা।
এ দিকে এর আগে রোহিঙ্গা নেতা মুহিব্বুল্লাহ হত্যা মামলায় আরসা প্রধান আতাউল্লাহর নাম আলোনায় এলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাকে রাখা হয়নি। এই প্রথম কোন আলোচিত মামলায় আরসা প্রধান আতাউল্লাহকে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখায় আরসার সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল। সেখানে সুড়ঙ্গ তৈরি করে অস্ত্র তৈরির কারখানা ও গোপন আস্তানা করেছিল সংগঠনটি। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল গোল্ডেন আরাকান নামে অত্যাধুনিক মানের একটি রেস্টুরেন্টও। এ ছাড়া শূন্যরেখার এই আস্তানায় বসে সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদক কারবার পরিচালনা করতেন আতাউল্লাহ।
২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর আস্তানায় মাদক মজুদের খবর পেয়ে গোয়েন্দা সংস্থা ও র্যাব যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানে গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এর পরেই অভিযোগ উঠে আরসা প্রধান আতাউল্লাহ ও খালেদের নেতৃত্বে তাকে হত্যা করা হয়েছিলে। এ দিকে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি আরসার ঘাঁটিতে হামলা চালায় আরএসও। এ সময় পুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্প পুড়িয়ে দেয়া হয়। একপর্যায়ে ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়ে যায় আরসার সন্ত্রাসীরা।



