খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের (প্রসীত গ্রুপ) চারজন নেতা নিহত হয়েছে। গত সোমবার রাতে পানছড়ি উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফতেহপুর এলাকায় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ও ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময় হয়। গোলাগুলির ঘটনায় ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহতরা হলেন- পিসিপির সাবেক সভাপতি ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল চাকমা (৩২), পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সুনীল ত্রিপুরা (২৮), গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সহসভাপতি লিটন চাকমা (২৯) ও ইউপিডিএফ সংগঠক রহিন বিকাশ ত্রিপুরা (৪৯)।
নিহতদের মধ্যে বিপুল চাকমা চেঙ্গী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করল্যাছড়ি বুদ্ধধন পাড়ার সুনয়ন চাকমার ছেলে। সুনীল ত্রিপুরার বাড়ি মাটিরাঙ্গা উপজেলার বড়নাল ইউনিয়নের সুরেন্দ্র রোয়াজা হেডম্যানপাড়ায়। তার পিতার নাম সুখেন্দু বিকাশ ত্রিপুরা। লিটন চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের দ্রোনচার্য কার্বারি পাড়ায়। তার বাবার নাম মৃত চিন্তা মুনি চাকমা। রুহিন বিকাশ ত্রিপুরা পানছড়ির উল্টাছড়ি ইউনিয়নের পদ্মিনী পাড়ার বাসিন্দা জনাধন ত্রিপুরার ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফকে (গণতান্ত্রিক) দায়ী করেছেন ইউপিডিএফ (প্রসীত) নেতা অংগ্য মারমা। তিনি জানান, মঙ্গলবার এলাকায় যুব সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। সে জন্যই তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন। রাতে তাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে হত্যা করা হয়। নব্যমুখোশধারী গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের সভাপতি শ্যামল চাকমা বলেছেন, পাহাড়ে বেশ কয়েকটি সংগঠন রয়েছে, তারা এ ঘটনা ঘটাতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংগঠনিক কাজের জন্য বিপুল চাকমাসহ ওই সাত নেতাকর্মী গতকাল লোগাঙ এলাকায় যান। তারা রাতে অনিলপাড়া নামক গ্রামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে দুর্বৃত্তদের একটি সশস্ত্র দল ওই বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় কিছুক্ষণ পরপর গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
এ দিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, হরতাল, সড়ক অবরোধ ও এক মাসব্যাপী বাজার বয়কটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়ে ইউপিডিএফে (প্রসীত গ্রুপ)। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনটির প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরণ চাকমা স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কর্মসূচি জানানো হয়। বিবৃতিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রবি শংকর চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিকো ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সঙ্ঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি কণিকা দেওয়ান, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অংকন চাকমা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, চারজনকে হত্যার পর সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে ইউপিডিএফ সংগঠক নীতিদত্ত চাকমা, হরিকমল ত্রিপুরা ও সদস্য প্রকাশ ত্রিপুরাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাদের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এ হত্যাকাণ্ডকে জঘন্য, ন্যক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত আখ্যায়িত করে বলেন, ঠ্যাঙ্গাড়ে বাহিনীগুলোর সন্ত্রাসী অপতৎপরতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নেই তা এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আর একবার প্রমাণিত হলো।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর প্রতিবাদ সমাবেশ ও শোকসভা। বিভিন্ন স্থানে কালো পতাকা উত্তোলন, ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পানছড়ি বাজার বয়কট। ১৭ ডিসেম্বর পানছড়ি উপজেলাব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট ও ১৮ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি জেলাব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ।



