খুলনার পাইকগাছায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস কক্ষে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে আদালতের স্টেনো বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে ওই রাতেই থানা পুলিশ মামলার আসামি উপজেলার গদাইপুর গ্রামের আনছার আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করেছে। এর আগে, ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে দু’টি কোকের বোতল ও একটি লাঠি জব্দ করেন।
ধারণা করা হচ্ছে, আদালতের এজলাস কক্ষের জানালার গ্লাস ভেঙে সেখান দিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাতে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস কক্ষের জানালা ভেঙে দুর্বৃত্তরা পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। বুধবার ভোর বেলায় স্থানীয় মুসল্লিরা পার্শ্ববর্তী মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়ার সময় পোড়া গন্ধ ও আদালত কক্ষ থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে আসতে দেখে আদালত সংশ্লিষ্টদের খবর দেয়। তৎক্ষণিকভাবে মুসল্লিদের সহায়তায় তারা আগুন নেভাতে সক্ষম হন। এতে এজলাসে আসামির কাঠগড়া, আইনজীবীদের বসার চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়। ঘটনার খবরে তাৎক্ষণিক সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) সাইফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আরিফুজ্জামান, পাইকগাছা থানার ওসি মো: ওবায়দুর রহমানসহ অন্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
এরপর দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন, খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসীর আরেফীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, এছাড়া ওই দিন বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন, চিফ জুডিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দ বাগচিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে আদালতের এজলাস কক্ষে আগুন লাগার ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলায় ঘটনার রাতে আদালত প্রাঙ্গণে ডিউটিরত উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল ও পুলিশ কনস্টেবল মনিকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে।