গত ১৫ বছরের ব্যবধানে সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদারের বার্ষিক আয় বেড়েছে প্রায় ২৯ গুণ। সাবেক এই পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা তদন্তাধীন আছে। আরেকটি মামলা হাইকোর্টে স্থগিত রয়েছে। তার অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৮ গুণ। আর তার স্ত্রীর কোনো বার্ষিক আয় না থাকলেও অস্থাবর ১৮ গুণ এবং স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। নবম, দশম ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে মাহবুবুর রহমান এবার দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে অষ্টম, নবম ও দশম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে পটুয়াখালী-৪ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী মাহবুবুর রহমানের অস্থাবর সম্পদ ছিল ব্যাংকে জমা ৮৩ হাজার ১১২ টাকা, ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি, ২০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার এবং ইলেকট্রনিক মালামাল ও আসবাবপত্র। তার স্ত্রী ছিল ৫ লাখ টাকা। কিন্তু ১৫ বছরের ব্যবধানে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী তার অস্থাবর সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫৭৯ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা এক কোটি ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার ৩০৪ টাকা। স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিতে শেয়ার ৩৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৭৬ লাখ ৩৩ হাজার ২৭৫ টাকার গাড়ি, স্বর্ণালঙ্কার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং আসবাবপত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। আর তার স্ত্রীর ব্যাংকে জমা টাকা, কোম্পানির শেয়ার, স্থায়ী আমানত, গাড়ি স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্রসহ রয়েছে ৯০ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ।
এদিকে মাহবুবুর রহমানের স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ২৬ দশমিক ১৭ একর কৃষি জমি, ৬ কাঠা ১৩ ছটাক অকৃষি জমি, আটতলা ভবন এবং মৎস্য খামারসহ আট কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৪৫১ টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। ব্যাংক ঋণ দুই কোটি ২০ লাখ ৫৬ হাজার ৯২৯ টাকা। অথচ ১৫ বছর আগে তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রাজউক থেকে পাওয়া পাঁচ কাঠার প্লট ও ৫৫ হাজার টাকার কৃষিজমি ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে ২০১৫ সালে ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় প্রথম মামলাটি দায়ের করে দুদক।



