বিশ্ববাসীর ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছে ২০২৩ সাল। এ বছর আগে থেকে চলমান যুদ্ধগুলো বেগবান হয়েছে, নতুন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরম আকার ধারণ করেছে। এ বছরে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অবনতি, তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্পে ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের শুরু এবং সেই আগ্রাসনে ২১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার মতো উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জগতেও বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে এ বছরে। এর বাইরেও নানা ঘটনা ঘটেছে বিদায়ী এই বছরে। সব মিলিয়ে এ বছর গণমাধ্যমে খুশি হওয়ার মতো সংবাদ খুব কমই প্রকাশিত হয়েছে। তাই ২০২৩ সাল নিঃসন্দেহে আলোচিত বছর হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেবে। উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিয়ে এ আয়োজন। আজ প্রকাশিত হচ্ছে দ্বিতীয় কিস্তি।

ইমরান খানের গ্রেফতার এবং নওয়াজ শরিফের প্রত্যাবর্তন : পাকিস্তান আরো একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটময় সময় পার করে এ বছর। চলতি বছর মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির দর ৩০০ ছাড়িয়ে যায়। জানুয়ারিতে বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ তিন বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। অক্টোবরে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ২৭ শতাংশে পৌঁছে। একটি দুর্নীতির মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ৫ আগস্ট তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার সময় তিনি যেসব উপহার পেয়েছিলেন, সেগুলো বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সম্পর্কে ঘোষণা না দেয়ার কারণে ইসলামাবাদের একটি আদালত এই রায় দেয়। এ দিকে লন্ডনে নির্বাসনে থাকা পাকিস্তানের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ সাধারণ নির্বাচনের তিন মাস আগে ২০ অক্টোবর দেশে ফিরেছেন।

দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে সাত বছরের কারাদণ্ড হয় তার। অসুস্থতার কারণে নওয়াজ শরিফ জামিন নিয়ে ২০১৯ সালে চিকিৎসার জন্য ব্রিটেনে যান। তবে শর্ত ছিল- তিনি সুস্থ হলেই ফিরে যাবেন পাকিস্তানে। কিন্তু পরে তিনি আর পাকিস্তানে ফিরে যাননি। নওয়াজ শরিফের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পাল্টে দেবে বলে ব্যাপকভাবে আশা করা হচ্ছে। আগস্টে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
কানাডা-ভারত সম্পর্কের টানাপড়েন : ভারত ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নাটকীয় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ১৮ জুন কানাডার ভ্যানকুভারে নির্বাসিত শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যার সাথে ভারত সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে কানাডা। এ ঘটনার জেরে অটোয়ায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-প্রধানকে বহিষ্কার করে কানাডা। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারতও নয়াদিল্লিতে কানাডার এক শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দু’টি দেশের মধ্যে অভূতপূর্ব এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমা বিশ্ব। শিখ আন্দোলন ঘিরে ভারত ও কানাডার মধ্যে অবনতিশীল সম্পর্ক আরো তলানিতে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্্রুডো পার্লামেন্টে বলেন, হরদীপ খুনের সাথে ভারতীয় এজেন্টদের যুক্ত থাকার বিষয়ে তার সরকারের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ’ আছে। ট্রুডো আরো বলেন, ‘কানাডার মাটিতে কানাডীয় নাগরিককে হত্যার সাথে বিদেশী সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি আমাদের সার্বভৌমত্বের অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন।’
অটোয়া ও নয়াদিল্লির পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘোষণার পর ভারত তার দেশের নাগরিকদের কানাডা ভ্রমণের বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। কানাডায় ‘ক্রমবর্ধমান ভারতবিরোধী তৎপরতা’ ও ‘ঘৃণ্য অপরাধ ও সহিংস পরিস্থিতির’ কথা বলে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সতর্কভাবে চলাচলের পরামর্শ দেয়া হয়। কানাডার নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অন্য দিকে কানাডাও ভারতে তাদের বাণিজ্য মিশন স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিগত বছরের মতো এই বছরও বিশ্বজুড়ে বেড়েছে তাপমাত্রা। বিশ্বের গড় তাপমাত্রা প্রতি বছর ‘অভূতপূর্ব’ হারে বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল প্রেডিকশন (এনওএএ) এ তথ্য জানিয়েছে। ১৯৭৯ সাল থেকে এনওএএ সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার হিসেব রাখছে। ৩ জুলাই বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১৭ দশমিক শূন্য ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৬২ দশমিক ৬২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছায়। এর আগে সর্বোচ্চ বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার রেকর্ডটি ছিল ১৬ দশমিক ৯২ সেলসিয়াস বা ৬২ দশমিক ৪৬ ফারেনহাইট। ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই এই রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল। আগামী বছর প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর আবির্ভাবের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির আরো নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৩ সালের জুলাই মাসজুড়ে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ বইতে থাকে। এতে ভেঙে যায় তাপমাত্রাবিষয়ক বিভিন্ন রেকর্ড। দেশে দেশে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অস্বস্তিতে পড়ে কোটি কোটি মানুষ। দেখা দেয় দাবানল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাকৃতিক ইভেন্ট এল নিনোর কারণে এমনটা হয় বলে মনে করা হচ্ছে। ১৭ জুলাই পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বে সর্বোচ্চ রেকর্ড তাপমাত্রা হয় ৫৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিতে ১৯১৩ সালে রেকর্ড করা হয়। আফ্রিকায় সর্বাধিক রেকর্ড করা তাপমাত্রা হলো ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৩১ সালে তিউনিসিয়ার কেবিলিতে রেকর্ড করা হয়েছিল। ইতিহাসে এশিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০১৭ সালে ইরানে রেকর্ড করা হয়। ২০২১ সালে ইতালির সিসিলিতে ইউরোপের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্য দিকে ২০২৩ সালে মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড দেখে চীনবাসী। বছরের শুরুর দিকে তীব্র ঠাণ্ডায় কাঁপছিল দেশটির কিছু এলাকা। একপর্যায়ে হিমাঙ্কের নিচে (মাইনাস) ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড দেখে চীন। শেষ পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠে যায় রেকর্ড ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

ধনকুবেরসহ সাবমেরিনের সলিল সমাধি : ১১১ বছর আগে ডুবে যাওয়া বিলাসবহুল জাহাজ ‘টাইটানিক’-এর ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাঁচ-পাঁচজন অভিযাত্রীকে নিয়ে যাচ্ছিল ডুবোযান টাইটেন। কিন্তু সমুদ্রের গভীরে ‘সর্বনাশা বিস্ফোরণ’-ই কাল হলো। চিরতরে সাগরের অতলে হারিয়ে গেল ওই ডুবোজাহাজ। ১৮ জুন উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে পাঁচজনকে বহনকারী টাইটান ডুবোজাহাজটি ডুবে যায়। ডুবোজাহাজটি ১২ হাজার ফুটেরও বেশি পানির নিচে ১১১ বছর বয়সী টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গভীর সমুদ্রের চরম পর্যটন মিশনের অংশ ছিল। জাহাজে থাকা যাত্রী ছিলেন ওশানগেটের সিইও স্টকটন রাশ, যে কোম্পানিটি অভিযান পরিচালনা করেছিল এবং ডিজাইন করেছিল। পল-হেনরি নারজিওলেট, একজন ফরাসি গভীর-সমুদ্র অভিযাত্রী এবং টাইটানিক বিশেষজ্ঞ। হামিশ হার্ডিং, একজন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী, শাহজাদা দাউদ, একজন পাকিস্তানি-ব্রিটিশ ব্যবসায়ী এবং তার ছেলে সুলেমান। চার-চার দিন নিখোঁজ থাকার পর ডুবোজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত করে আমেরিকান কোস্টগার্ডের রোবট ডুবুরি। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ‘টাইটান’-এর কোনো অভিযাত্রীই বেঁচে নেই বলে জানায় ওয়াশিংটনের সংস্থা ‘ওশানগেট’।

ইউক্রেন যুদ্ধের দ্বিতীয় বছর : ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের ফলে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের গুরুত্ব অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে। তবুও এই যুদ্ধের ফলে ইউরোপের নিরাপত্তা এখনো হুমকির মুখে রয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ২০২২-এর ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া যে যুদ্ধ শুরু করেছিল তা এ বছরও অব্যাহত থাকে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় দুই বছর হতে চললেও যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ বছর বড় কোনো সাফল্য জোটেনি ইউক্রেনের। ছোট ছোট যা কিছু অগ্রগতি হয়েছে তার জন্য অনেক বড় মাশুল দিতে হয়েছে। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের মিত্র ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগতভাবে সৈন্য এবং অস্ত্রের সরবরাহ ও তহবিল দিয়ে সাহায্য করে আসছিল। বর্তমানে যদিও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরিবর্তনের কারণে মিত্রদের তহবিল কমিয়ে দেয়ায় যুদ্ধে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে ইউক্রেনকে। যুদ্ধের হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। জাতিসঙ্ঘ বলছে যে, ১০ হাজারেরও বেশি ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ইউক্রেন ও রাশিয়ার কয়েক লাখ সৈন্য নিহত হয়েছে। এ দিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন যে, কিয়েভ মস্কোর নিরাপত্তা উদ্বেগকে বিবেচনায় নিয়ে একটি চুক্তি না করলে যুদ্ধ চলতেই থাকবে। মে ও জুন মাসে ইউক্রেন জোরেশোরে আক্রমণ চালিয়ে রুশ বাহিনীকে বেশ চাপে ফেলে দিয়েছিল। এ ছাড়া সারা বছর বলতে গেলে ইউক্রেনের অর্জন তেমন কিছু নেই। অন্য দিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কিও কূটনৈতিকভাবে ক্রমেই একা হয়ে পড়েছেন। ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। কিয়েভকে বিশাল অঙ্কের এক আর্থিক সহায়তা বিল মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের আপত্তির মুখে আটকে যায়। রিপাবলিকানদের আটকে দেয়া ৬১ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ইউক্রেনকে বেশ অসুবিধায় ফেলেছে। এই মুহূর্তে দেশটি যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য নতুন যোদ্ধার সন্ধানে রয়েছে। তবে বছরের শেষপ্রান্তে ২৭ ডিসেম্বর ইউক্রেনে আবারো বিপুল অঙ্কের সামরিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই সহায়তা প্যাকেজের পরিমাণ ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সর্বশেষ এই প্যাকেজের মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধির সরঞ্জামসহ আর্টিলারি গোলাবরুদ ও অ্যান্টি-আরমার অস্ত্রও রয়েছে।

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের নতুন আগ্রাসন : ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে একটি বড় আকারের আক্রমণ শুরু করে। এতে প্রায় এক হাজার ২০০ ইসরাইলি নিহত হয়। তা ছাড়া ইসরাইল থেকে ২৪২ জন সামরিক ও বেসামরিক লোককে বন্দী করে নিয়ে যায় তারা। হামাস একে অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড (আল-আকসা প্লাবন অভিযান) নামে অভিহিত করে। ফিলিস্তিনি এলাকায় ইসরাইলি বসতি স্থাপন বৃদ্ধি ও ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, জেনিনে সংঘর্ষ, ২০২১-এ আল-আকসা মসজিদ ও গাজায় প্রায় ২৫০ জন ফিলিস্তিনি ও ৩২ জন ইসরাইলি নিহত হওয়া- হামাস এই ঘটনাগুলোকে আক্রমণের ন্যায্যতা হিসেবে উল্লেখ করে এবং গাজার বাইরের ফিলিস্তিনিদেরকে ‘দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে’ যোগ দেয়ার আহ্বান জানায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি অবস্থা ও যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং বিরোধী দল জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান জানায়। সংশ্লিষ্ট ইসরাইলি প্রত্যাক্রমণকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষাবাহিনী (আইডিএফ) দ্বারা অপারেশন আয়রন সোর্ডস (লৌহ তরবারি অভিযান) নাম দেয়া হয়। এরপর আন্তর্জাতিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে ইসরাইলি বাহিনী গাজা ভূখণ্ডে নির্বিচারে বেসামরিক অবস্থানের ওপর হামলা শুরু করে। সেখানে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ইসরাইল বলেছে, বন্দীদের ছেড়ে না দেয়া পর্যন্ত এগুলো চালু করা হবে না। গাজা পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে। ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর ৫০ বছরে এত ব্যাপক লড়াই আর হয়নি। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ছিলেন সেটি কেটে যায়। আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে গাজায় বিমান ও স্থল হামলা অব্যাহত রাখেন বছরের প্রায় শেষ পর্যন্ত। কাতারের মধ্যস্থতায় মাঝে এক সপ্তাহের মতো অস্ত্রবিরতি হলেও সেটি স্থায়ী হয়নি। ইসরাইলের আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশু শতকরা ৭০ জন। তবে গাজায় স্থল হামলা চালাতে গিয়ে হামাসের হাতে কমপক্ষে ১৬৭ সৈন্যের নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে ইসরাইল।