চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও ১৪ দলের নেতা সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মাইজভাণ্ডার রাহমানিয়া মনজিলে ফটিকছড়ির এমপি নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী তার নিজ বাসভবনে বিশেষ প্রেস ব্রিফিং করে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নজিবুল বশর ভোট থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান। তিনি আরো বলেন, ‘আমিসহ বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (বিটিএফ)-এর অন্যান্য প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ পথসভা চালিয়ে যাচ্ছি। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী আমেজে আমরা আমাদের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে চালিয়ে আসছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- তরীকত ফেডারেশনের নেতা সৈয়দ তৈয়বুল বশর মাইজভাণ্ডারী, মোহাম্মদ শাহজালাল, আলমগীর আলম, মওলানা কাজী নিজাম মোরশেদ প্রমুখ।
নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জোট নেতা হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও ভাণ্ডারী জোটগত মনোনয়ন পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নৌকাবঞ্চিত হন। এরপর নিজ দলের মনোনয়নে ফুলের মালা প্রতীক নিয়ে ফটিকছড়িতে প্রার্থী হন ১৪ দলের নেতা ভাণ্ডারী। নির্বাচনী প্রচারণায় বর্তমান এমপি ভাণ্ডারী মাঠে না নামলেও তার পক্ষে ছেলে সৈয়দ তৈয়বুল বশর মাইজভাণ্ডারী গণসংযোগ ও পথসভা করেন। তিনি উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভায় ব্যাপক গণসংযোগ করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথমবার এমপি হন ভাণ্ডারী। ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বার এমপি হন নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। পরে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ত্বরীকত ফেডারেশন নামে একটি রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে যোগ দিয়ে ১৪ ও ১৮ সালের নির্বাচনে জোটগত মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে সর্বোচ্চ চারবার এমপি হন।