কলেজশিক্ষকের সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরে প্রবাসী ছেলের বউয়ের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন শাশুড়ি তহুরা বেগম (৫৫)। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামশা ইউনিয়নের ছোট বরুন্ডী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তহুরা ওই গ্রামের সোনামুদ্দিন বিশ্বাসের স্ত্রী।
পুলিশ গতকাল বুধবার ভোরে নিহত শাশুড়ি তহুরা বেগমের লাশ উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আল মামুন বাদি হয়ে আইরিন আক্তার (২১) ও তার প্রেমিক হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা খাজা রহমত আলী ডিগ্রি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক লাল মুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ ছেলের বউ আইরিন আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করেছে।
নিহতের পারিবারিক ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত মাস তিনেক আগে নিহতের ছেলে রাসেল বিশ^াসের সাথে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আলগীরচর গ্রামের সিদ্দিক মোল্লার মেয়ে অভিযুক্ত আইরিন আক্তারের বিয়ে হয়। সপ্তাহ খানেক আগে নিহতের ছেলে বিদেশে চলে যাওয়ায় বউয়ের পরকীয়ার ঘটনা টের পান। এ নিয়ে বউ-শাশুড়ির মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ঘটনার রাতে আইরিন দুধ গরম করার অজুহাতে পাশের রুমে গিয়ে প্রেমিকের সাথে ফোনে কথা বলছিল। এ সময় শাশুড়ি তার ফোনালাপ শুনে ফেলায় দুইজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে ছেলের বউ তার হাতে থাকা টর্চ লাইট দিয়ে শাশুড়ির মাথায় আঘাত করে। এরপর চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। লাশ ঘর থেকে অন্যত্র সরানোর সময় শব্দে পাশের রুমে থাকা শ^শুরের ঘুম ভেঙে যায়। এতে তিনি এগিয়ে এলে তাকেও আইরিন আক্তার চাকু দিয়ে আঘাত করে। এতে সোনামুদ্দিন বিশ^াসের ঠোঁট কেটে যায়। এ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে আইরিনকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। অভিযুক্ত কলেজশিক্ষক লাল মুদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি লাইন কেটে দেন।
মামলার বাদি আল মামুম জানান, বিয়ের দুই মাস পরেই আইরিনের সাথে কলেজশিক্ষক লাল মুদ্দিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ পায়। এ নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এ অবৈধ সম্পর্কের যথেষ্ট প্রমাণও রয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিংগাইর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বলেন, খবর পেয়ে আইরিনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতারসহ হত্যায় ব্যবহৃত টর্চ লাইট, চাকু ও রক্তমাখা শাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ওসি মো: জিয়ারুল ইসলাম বলেন, আসামি আইরিন আক্তারকে স্বীকারোক্তিমূলক জবাব বন্দীর জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বাকি আসামিকেও গ্রেফতার করা হবে।