ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মাস্টারবাড়ি এলাকায় অবস্থিত এসকিউ কারখানায় ইটিপি থেকে নির্গত গ্যাস ও অক্সিজেন সমস্যার কারণে তিন দিনে তিনজনের মৃত্যু ও ৪৪ শ্রমিক অসুস্থ হয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক গঠিত সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটির তদন্তে এটি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান।
জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি এসকিউ পোশাক কারখানায় নারগিস আক্তার (৪৫), ১২ জানুয়ারি রিফাত হাসান (৩০) ও ১৬ জানুয়ারি শিউলী আক্তার (৩৬) নামের তিন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। বিষয়টি কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। তখন অন্য শ্রমিকরা খোঁজ পেয়ে কারখানার কর্তৃপক্ষকে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে অসুস্থ শ্রমিকদের শ্রীপুরের মাওনা বেসরকারি আল হেরা হাসপাতালে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শ্রমিকরা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন আল হেরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা। অপর দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আট শ্রমিকের মধ্যে ছয়জনও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন।

কারখানায় শ্রমিক অসুস্থতার ঘটনায় ১৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানকে কমিটির প্রধান করা হয়। আর সদস্যসচিব করা হয়, ময়মনসিংহের কলকারখানা পরিদর্শন অধিদফতরের উপমহাপরিদর্শক আরিফুজ্জামানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, পুলিশ সুপারের একজন প্রতিনিধি, সিভিল সার্জনের একজন প্রতিনিধি, পরিবেশ অধিদফতরে উপপরিচালকের প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ শিল্পপুলিশ-৫ এর পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ও ময়মনসিংহের ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক। কমিটির সদস্যরা দুই দিন পর সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তা ছাড়া সিভিল সার্জন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) হাসানুল হোসাইনকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- অর্থোপেডিক্সের চিকিৎসক সোহেল রানা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ। এই কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দীর্ঘক্ষণ তদন্ত শেষে তিন সুপারিশসহ তাদের প্রতিবেদন সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।
তদন্তের বিষয়ে কমিটির প্রধান ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মোবাইল ফোনে জানান, এসকিউ কারখানার বিরিকিনা-২ ইউনিটটি এয়ারকন্ডিশন করা ছিল। শীতকাল চলমান থাকায় এসিটি বন্ধ। তাই কারখানায় বাতাস নির্গমনের সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে তাদের ধারণা। তা ছাড়া ভবনের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে ইটিপি প্ল্যান্ট। সেখান থেকেও গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। ওই ঘটনার তদন্তের পর আটটি সুপারিশ উল্লেখ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, ভালুকার এসকিউ কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটিতে উচ্চমান সম্পন্ন দক্ষ জনবল ছিল না। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আরো অধিকতর দক্ষ জনবল দিয়ে তদন্তের জন্য শ্রম মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হবে।