বাংলাদেশের আকাশসীমায় মিয়ানমারের হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখেছে সীমান্ত এলাকার মানুষ। সম্প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘর্ষ চলাকালে গত শনিবার মিয়ানমার থেকে ১৩টি মর্টার শেল ও একটি বুলেট বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্তে এসে পড়ে। এই ঘটনার তাৎক্ষিণক প্রতিবাদ জানিয়ে মিয়ানমার বর্ডার গার্ডের (বিজিপি) কাছে লিখিত প্রতিবাদ পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মর্টার শেল ও বুলেট এসে পড়া সীমান্তের দায়িত্বে ছিল কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন-৩৪ বিজিবি।
রোববার বিকেলে ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান সীমান্ত পরিদর্শন করেন। তিনি বুলেট ও মর্টার শেল পড়ার স্থানটিও পরিদর্শন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী পালংখালী, তুমব্রু ও হোয়াইক্যং বিওপি পরিদর্শন করেন এবং মিয়ানমারের চলমান সংঘর্ষ ও প্রতিপক্ষের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষেণ রাখতে বিজিবিকে সীমান্ত এলাকায় সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। এ ছাড়া মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে বিজিবি সদস্যদের নির্দেশ দেন মহাপরিচালক। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি রাখাইন রাজ্যের পালেতওয়া শহরটি দখলে নেয়ার দাবি করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র খাইন থু খা বলেন, ‘আমরা কালাদান নদীর তীরবর্তী বন্দরনগর পালেতওয়া দখলে নিয়েছি। প্রতিবেশী দেশগুলোর (বাংলাদেশ ও ভারত) সাথে বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্য শহরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ গত শুক্রবার আরাকান আর্মি জানায়, তারা রাখাইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দনগরী পাকতাও দখল করে নিয়েছে।
এর পর থেকেই মূলত সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সাথে তুমুল লড়াই শুরু হয়। আরাকান আর্মি এখন পুরো রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। গতকাল সোমবার সকালেও গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন স্থানীয়রা। তুমব্রু সীমান্তের শাহজাহান বলেন, গতকাল সকালেও গোলাগুলির শব্দ এবং বাংলাদেশের আকাশসীমায় হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখা যায়। ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় আবারো গোলাগুলি চলছে। এ গোলাগুলির ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দাসহ ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা। ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, গতকালও ঘুমধুম সীমান্তের জিরো পয়েন্টে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। কেউ হতাহত না হলেও সীমান্ত এলাকার শিশুরা ভীষণ ভয়ের মধ্যে আছে। এখন মিয়ানমারের গোলাগুলি ও মর্টার শেলের শব্দে এখানকার মানুষের ঘুম ভাঙে। তিনি বলেন, শনিবার সারা রাত গোলাগুলি হয়েছে। তবে রোববার সকাল থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। গতকাল সকালে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার বাংলাদেশ সীমানায় এসে চক্কর দেয়া এবং মর্টার শেল ও বুলেট এসে পড়ায় আমরা যারা এপারে বসবাস করছি সবাই আতঙ্কে আছি। কখন কোন সময় কী হয় জানি না। বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে। এ দিকে মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তুমব্রু সীমান্তের স্থানীয়রা অনেকেই নিরাপদে সরে গেছেন বলেও জানান স্থানীয়রা। পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের বুলেট ও মর্টার শেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়ায় এবং বাংলাদেশের আকাশ সীমানায় মিয়ানমারের হেলিকপ্টার চক্কর দেয়ায় বাংলাদেশ সীমান্তে বসবাসকারী লোকজন আতঙ্কে অনেকেই ইতোমধ্যে নিরাপদে চলে গেছেন।



