আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য কাশ্মির সমস্যার সমাধান অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকের বক্তারা। গতকাল সকালে গোলটেবিল আলোচনা সভা রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংস্থার গবেষণা পরিচালক মো: ইসরাফিল।
আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক ড. সাইফুদ্দিন আহমেদ কাশ্মিরের জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ২৭ অক্টোবর সারা বিশ্বে কালো দিবস হিসেবে পালন করা হয়। কারণ এই দিনে ভারত কোনো আইনি যুক্তি ছাড়াই জোরপূর্বক জম্মু ও কাশ্মির রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। কাশ্মির সংহতি দিবস, প্রতি বছর ৫ ফেব্রুয়ারিতে স্মরণ করা হয়, জম্মু ও কাশ্মিরে যারা ন্যায়বিচার এবং স্বাধীনতার জন্য অবিরত তাদের কণ্ঠস্বরকে বাড়িয়ে তোলে। এটি কাশ্মিরি জনগণকে তাদের ন্যায্য অধিকারের জন্য সংগ্রামে পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিশ্রুতিকে নির্দেশ করে।
তিনি বলেন, আর্টিকেল ৩৭০ পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ভারতকে কাশ্মিরি জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। হিন্দুত্ববাদি পলিসির মাধ্যমে কাশ্মির হতে পারে আগামীর ইসরাইল। ফিলিস্তিনের ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে কাশ্মিরিদের। ৩৭০ বাতিল করার মধ্য দিয়ে সব ভারতীয় কাশ্মিরে জমি ক্রয় করতে পারবে। এই নীতির কারণে অদূর ভবিষ্যতে নিজ ভূমে পরবাস হতে পারে কাশ্মিরের মুসলিম জনতা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শুধু পাকিস্তান ও ভারতকে সংযত থাকার অনুরোধ করে, কিন্তু কাশ্মিরের প্রকৃত সমস্যা সমাধানের জন্য কেউ কাজ করে না। দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য জাতিসঙ্ঘকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আশরাফ আল দ্বীন বলেন, ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের সংবাদ যেভাবে প্রচারিত হয় কাশ্মিরের মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের সংবাদ সেভাবে প্রচার হয় না। এখানে অধিকাংশ মুসলিম নিয়মিত নির্যাতিত হচ্ছে। এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ সব রাষ্ট্রের জনগণের সোচ্চার হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে সার্ককে কার্যকর করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বারোপ করেন। কাশ্মিরের অধিবাসীদের মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং সঙ্ঘাতমুক্ত কাশ্মির প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসঙ্ঘ এবং ভারতের ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি কাশ্মিরিদের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, আর্টিকেল ৩৭০ পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ভারতকে কাশ্মিরি জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। কাশ্মির যতক্ষণ পর্যন্ত দেশ না হবে ততদিন পর্যন্ত কাশ্মিরের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাবে না বলেও মনে করেন তিনি। কাশ্মিরি জনগণের প্রতি বঙ্গবন্ধুর যে সমর্থন তা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণের উচিত কাশ্মিরিদের পাশে দাঁড়ানো।
কাশ্মির সঙ্কট দক্ষিণ এশিয়া তথা সারা বিশ্বের জন্য হুমকিস্বরূপ উল্লেখ করে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্যারিস্টার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) এম সরওয়ার হোসেন বলেন, কাশ্মিরিদের যে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন (আর্টিকেল ৩৭০) তা রদ করে ভারত এই অঞ্চলকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ভারত সরকারকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছেড়ে কাশ্মিরের জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণের উচিত কাশ্মিরিদের পাশে দাঁড়ানো। জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে গণভোট অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাশ্মির সঙ্কটের সমাধান করতে হবে। কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী জনগোষ্ঠীর পাশে দেশের সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে সহায়তা করার আহ্বান জানাই। জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরিদের মতামত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত কাশ্মির সমস্যা সমাধান করা উচিত এবং সেখানে যুবসমাজের দুর্দশা ও তাদের ওপর সশস্ত্র বাহিনীর নির্মমতার কথা তুলে ধরার আহ্বান জানান।