- ৬ জনের সনদ বাতিল, বহিষ্কার ৩
- ক্যাম্পাসে ৪ জন অবাঞ্ছিত রাবিতে মিছিলে ছাত্রলীগের বাধা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হলে এক দম্পতিকে ডেকে এনে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সারা দেশের শিক্ষাঙ্গন। বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। প্রতিবাদ জানিয়েছে নাগরিকসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও। কোথাও কোথাও আয়োজিত বিক্ষোভে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অবিলম্বে মূলহোতা পলাতক মামুনকে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এ দিকে ওই ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমানসহ ছয় শিক্ষার্থীর সনদ স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। গত রোববার দুপুরে জাবি ভিসি অধ্যাপক ড. মো: নূরুল আলমের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মো: মোস্তাফিজুর রহমানকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার সনদ স্থগিত করা হয়েছে। তাকে সহযোগিতাকারী একই বিভাগের শিক্ষার্থী মো: মুরাদ হোসেনকে সাময়িক বহিষ্কার ও সনদ স্থগিত করা হয়েছে। তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তা করার নির্দেশদাতা একই বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ পরানের সনদ স্থগিত করা হয়েছে। পালাতে সহায়তা করায় উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের মো: সাব্বির হাসান সাগর, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এ এস এম মোস্তফা মনোয়ার সিদ্দিকী ও মো: হাসানুজ্জামানকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তাদের সনদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সাথে তাদের তিনজনকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে প্রশাসন। এ ছাড়াও ধর্ষণ ও এতে সহযোগিতায় অভিযুক্ত বহিরাগত মামুনসহ অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাবি প্রশাসন।
সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে সিন্ডিকেট আরো কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেগুলো হলো- ১. ইতোমধ্যে যাদের পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে তাদের এবং অবৈধভাবে হলে অবস্থানরত অন্যান্য শিক্ষার্থী ও পোষ্যদের আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে হল ছাড়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে বলা হয়েছে। হল ত্যাগ না করলে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ২. ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৩. ভাসমান দোকান সরিয়ে দিতে নিরাপত্তা ও এস্টেট শাখাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ৪. ক্যাম্পাসে অনুমোদনহীন অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ দিকে অভিযুক্তদের বিচার নিশ্চিতের দাবিতে গতকালও দিনভর আন্দোলন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদি হয়ে মামলা দায়ের, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হল বহিরাগত মুক্ত করাসহ বিভিন্ন দাবি জানান এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। সন্ধ্যা ৭টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: আবু হাসান বাদি হয়ে অভিযুক্ত মামুন, ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো: মোস্তাফিজুর রহমান, হাসানুজ্জামান, ৪৪তম ব্যাচের মুরাদ হোসেন, শাহ পরাণ, ৪৬তম ব্যাচের এ এস এম মোস্তফা মনোয়ার সিদ্দিকী, ৪৭তম ব্যাচের সাব্বির হোসেন সাগরের নাম উল্লেখ করে অভিযোগটি দায়ের করেন।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর স্বামী পূর্বপরিচিত মামুনের সাথে দেখা করতে জাবির মীর মশাররফ হলে যান। স্ত্রীকে নিয়ে কেনাকাটা করতে যাবেন বলে জানান। পরে মামুনের কথামতো স্ত্রীকে ফোন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে বলেন। স্বামীর কথামতো ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ে এলে মামুন তার স্বামীকে মীর মশাররফ হলের ‘এ’ ব্লকের ৩১৭ নম্বর কক্ষে আটকে রেখে মারধর করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে স্বামীর সাথে দেখা করার কথা বলে কৌশলে বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে ধর্ষণ করেন মামুন ও মোস্তাফিজ। পরে ওই দুইজন গ্রেফতারকৃতদের সহায়তায় পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী রাতেই বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
রাবিতে বিক্ষোভে ছাত্রলীগের বাধা
রাবি প্রতিনিধি জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো। তবে এ সময় সরকার ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলে মিছিলে এসে বাধা দেয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব ও তার অনুসারীরা। গতকাল বেলা দেড়টায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে বাধা দিতে দেখা যায় ছাত্রলীগকে। এ সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে বাগি¦তণ্ডার ঘটনা ঘটে।
নাগরিক ছাত্রঐক্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মেহেদী হাসান মুন্না জানান, মিছিলের পর প্রশাসন ভবনের সামনে সমাবেশে বক্তব্য প্রদানের আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাধা দেন। যে দেশে গণতন্ত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই, সে দেশে তো তারা বাধা দিবেই; এ বিষয়ে তাদের লাইসেন্সও রয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হোসেন বলেন, আমরা মনে করি, ধর্ষণের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, এটি সামনে আরো বেগবান হবে। ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি রায়হান আলি বলেন, কোন দেশে আছে যে, সরকার প্রধানকে প্রশ্নের মুখোমুখি করা যাবে না। ‘শেখ হাসিনার কাছে জবাব চাই’- এমন স্লোগান নাকি আমরা দিতে পারব না। ২০২০ সালে সিলেটের এমসি কলেজে ধর্ষণ, ২০১৮ সালে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আমরা দেখেছি ধর্ষণের ঘটনা। তাদের সাথে জড়িত কারা? ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরাই এসব কাজে লিপ্ত।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ছাত্রঐক্য, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র যুব আন্দোলন, ছাত্র গণমঞ্চ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরা।
এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব বলেন, কিছু ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর নামে কটূক্তিমূলক কথা এবং ছাত্রলীগের নামে বিতর্কিত স্লোগান দিচ্ছিলেন। ক্যাম্পাসে সরকার ও ছাত্রলীগের নামে স্লোগান দিতে মানা করেছি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মীরা এ ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের নামে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তাদেরকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসকে স্থিতিশীল রাখতে আমাদের ভূমিকা রাখতে হবে।
সুজনের উদ্বেগ
বিশেষ সংবাদদাতা জানান, গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলে এক দম্পতিকে ডেকে এনে স্বামীকে আটকে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক সংগঠন ‘সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক’। বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক নেতা ও কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। সুজন এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগের পাশাপাশি একইসাথে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছে।
গতকাল উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান এবং সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। বিবৃতিতে তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ, জ্ঞান চর্চাকেন্দ্র। এখান থেকেই জ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে এবং শিক্ষার্থীরা জীবনমুখী ও নৈতিক শিক্ষা পায়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই যখন ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটে, তখন আমরা অবাক ও ক্ষুব্ধ না হয়ে পারি না। তা ছাড়া ধর্ষণের মতো অপরাধ ও অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে যে তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ জানানো ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা সেখানে তাদের বিরুদ্ধেই ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা আমাদের মনে শঙ্কা তৈরি করছে। তারা বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরির অভিযোগসহ এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিও আমাদের শঙ্কার আরেকটি কারণ। আমরা একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ দেশের সর্বত্র নারী ও শিশুসহ সব নাগরিকের পরিপূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।
সর্বোচ্চ সাজার দাবি শিবিরের : জাবির আবাসিক হলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি অবিলম্বে ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার ও নতজানু প্রশাসনের সরাসরি মদদে লোমহর্ষক, নৃশংসতা ও অসভ্যতার সর্বোচ্চ ঘৃণ্য নজির স্থাপন করে চলেছে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তারই ধারাবাহিকতায় জাবির মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন জঙ্গলে এই ঘৃণ্য কাজটি করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর মতো কোনো সভ্য ভাষা আমাদের জানা নেই। একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এমন কলঙ্কজনক ঘটনা শিক্ষাঙ্গন ও ছাত্রসমাজের জন্য চরম অবমাননাকর।
বিবৃতিতে শিবির নেতারা আরো বলেন, আমরা সবাই জানি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরী পালন করে জাতির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছিল ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা মানিক। ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেট এমসি কলেজ প্রাঙ্গণে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করেছিল ছাত্রলীগের চিহ্নিত ছয় সন্ত্রাসী। কিন্তু কোনো ঘটনারই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। প্রায় প্রতিদিনই দেশের নানা স্থানে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা ধর্ষণ, নির্যাতন, হয়রানির শিকার হচ্ছে নারীরা। গত কয়েক বছরে ধর্ষণের নজিরবিহীন রেকর্ড হয়েছে বাংলাদেশে। সাথে সাথে রয়েছে ধর্ষণের পর হত্যা ও বীভৎসতা। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্ষণ যেন এক মহামারিতে পরিণত হয়েছে। দেশের বেশির ভাগ ধর্ষণ ও খুনের সাথে যে সরকার-দলীয় লোকজন জড়িত, তা বারবার গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। কিন্তু কোনোটিরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। ফলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোন জনপদেই যেন আজ নারীরা নিরাপদ নয়।
সরকারের যদি বিচারহীনতা ও প্রশাসন অনৈতিক মদদ অব্যাহত রাখে তাহলে মোকাবেলা করতে ছাত্রসমাজ দেশবাসীকে সাথে নিয়ে অভিশপ্ত নরপশুদের মোকাবেলায় দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। আর তখন যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সরকার ও প্রশাসনকে তার দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।