রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো: জাকারিয়া বলেন, আপনারা সবাই দেখেছেন গত কিছুদিন আগে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আমাদের ২৩ নাগরিককে তুলে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, গত জানুয়ারিতে রইসউদ্দিন নামে এক বিজিবিকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের টাঙ্গাইল শাড়িকে তারা তাদের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু এটাই নয়, আমরা বেনাপোল বন্দরে টার্মিনাল নির্মাণ করছিলাম। তারা সেটিও বন্ধ করে দিয়েছে। ভারত যে আগ্রাসনমুখী কাজগুলো করছে, তার পেছনে শক্তি কী! এগুলোর পেছনে কারা কাজ করছে?

তিনি বলেন, আমাদোর নীরবতার কারণেই এগুলো সম্ভব হয়েছে। এই আগ্রাসনের পেছনে দায় শুধু সরকারের না, এই দায় আমাদেরও। আপনারা দেখেছেন, গত কয়েক দিন আগে যখন বিজিবি সদস্য নিহত হলেন তখন ভারতীয় হাইকমিশনের সাথে মিটিং করে আমাদের একজন মন্ত্রী বললেন, এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমরা বলতে চাই এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এ রকম ঘটনা অহরহ হচ্ছে।
জাকারিয়া বলেন, ভারত আমাদের তথাকথিত বন্ধুরাষ্ট্র। আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে আছে কারো সাথে শত্রুতা নয়, সবার সাথে বন্ধুত্ব। কিন্তু কেউ যদি আমার বোনকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখে, আমার দেশের সীমান্ত রক্ষীকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে, তখন সেই বন্ধুরাষ্ট্রকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আমরা এখানে প্রত্যেকটি তথাকথিত বিচ্ছিন্ন ঘটনার বিচারের দাবি এবং ভারতীয় হাইকমিশনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি নিয়ে দাঁড়িয়েছি।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোছাদ্দেক আলী বলেন, ভারতের কুখ্যাত বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের ২৩ জন যুবককে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এর থেকে খারাপ খবর আর নাই। এই ঘটনার কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আমরা কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। তারা কি বাংলাদেশের নাগরিক নয়? যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়া দায়িত্ব সরকারের। সেখানে কারোরই জীবনের নিরাপত্তা নাই।

তিনি বলেন, আমরা হুঁশিয়ার করে বলে দিতে চাই, বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র। স্বাধীন রাষ্ট্রে কারো প্ররভুত্ব চলবে না। আমরা কারো প্রভুত্ব সহ্য করব না। গত ১৫ বছরে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে কুখ্যাত নরপিশাচ বিএসএফ বাহিনীরা। ভারতের সাথে অনেক দেশের সীমানা রয়েছে। সেসব সীমান্তে তো কোনো গুলির শব্দ শোনা যায় না। তাহলে বাংলাদেশে কোনো প্রতিটা দিন শোনা যায়। আমরা এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি। পাশাপাশি ভারতের এইসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করছি।
বিক্ষোভ মিছিলে ঢকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। মিছিলে তারা ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী সেøাগান দেন।