বাংলা ভাষার জন্য যে ক’জন মহান বীরসন্তান তাদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আব্দুল জব্বার। তিমি ১৯১৯ সালের ১১ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হাসান আলী এবং মায়ের নাম সাফাতুন নেছা। তার অন্য ভাইদের নাম হচ্ছে আবদুল কাদের ও এ এইচ এম আসাদ (নয়ন)। তিনি স্থানীয় ধোপাঘাট কৃষ্টবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছুকাল অধ্যয়নের পরে দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া ত্যাগ করে বাবাকে কৃষিকাজে সাহায্য করেন। পনেরো বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেন।
আব্দুল জব্বার গৃহত্যাগ করে নারায়ণগঞ্জে এসে সেখানে জাহাজ ঘাটে এক ইংরেজ ব্যবসায়ীর সান্নিধ্যে আসেন। ব্যবসায়ী তাকে একটি চাকরি দিয়ে বার্মায় (বর্তমান মিয়ানমার) পাঠান। সেখানে ১০-১২ বছর অবস্থান করেন। পরে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর পাকিস্তান ন্যাশনাল গার্ডে (পিএনজি) যোগদান করেন। পিএনজি ভেঙে দেয়া হলে পরবর্তীকালে তিনি আনসার বাহিনীতে যোগদান করেন। ময়মনসিংহ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে নিজ গ্রামে ‘আনসার কমান্ডার’ হিসেবে কাজ করেন।

আব্দুল জব্বারের ছেলে জন্ম হওয়ার কিছুকাল পরে তার শাশুড়ি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। শাশুড়িকে নিয়ে ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় আসেন। হাসপাতালে তার শাশুড়িকে ভর্তি করে আবদুল জব্বার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রদের আবাসস্থল (ছাত্র ব্যারাক) গফরগাঁও নিবাসী সিরাজুল ইসলামের রুমে (২০/৮) ওঠেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে এলে জব্বার তাতে যোগদান করেন।
এ সময় আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ গুলি বর্ষণ করে এবং জব্বার গুলিবিদ্ধ হন। ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাকে যারা হাসপাতালে নিয়ে যান, তাদের মধ্যে ছিলেন ২০/৮ নম্বর কক্ষের সিরাজুল হক। তাকে আজিমপুর কবরস্থানে কবর দেওয়া হয়। মহান ভাষা আন্দোলনে অনবদ্য ভূমিকা রাখায় আবদুল জব্বারকে বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করেন।