বাংলা ভাষা আন্দোলনের ঘটনা, শহীদদের অবদান স্মরণসহ ভাষা সংগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত অনেক বিষয়ই ফুটে উঠেছে একটি গানে। গানটি বাঙালি জাতিকে আবদ্ধ করেছে একটিমাত্র বন্ধনে। গানটি হলো ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ কথা দিয়ে শুরু হওয়া ‘একুশের গান’। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ এই গান গেয়ে শহীদ মিনার অভিমুখে খালি পায়ে হেঁটে যান। ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাত ফেরিতে এই গান গেয়ে সবাই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিবিসির শ্রোতা জরিপে বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ গানের তালিকায় গানটি তৃতীয় স্থান লাভ করেছে।
এই গানের কথায় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখে সংঘটিত বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ফুটে উঠেছে। সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে গানটি রচনা করেন। প্রথমে আবদুল লতিফ গানটির সুরারোপ করেন। তবে পরে আলতাফ মাহমুদের করা সুরটিই অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৫৪ সালের প্রভাত ফেরীতে প্রথম গাওয়া হয় আলতাফ মাহমুদের সুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গানটি এবং এটিই এখন গানটির প্রাতিষ্ঠানিক সুর। ১৯৬৯ সালে জহির রায়হান তার ‘জীবন থেকে নেওয়া’ চলচ্চিত্রে এই গানটি ব্যবহার করেন। বর্তমানে এই গান হিন্দি, মালয়, ইংরেজি, ফরাসি, সুইডিশ, জাপানিসহ ১২টি ভাষায় গাওয়া হয়।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ ভাষা আন্দোলনকারী ছাত্রদের মিছিলে গুলি চালালে এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার প্রমুখ ছাত্র হতাহত হয়। সে সময় ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুল গাফফার চৌধুরী ঢাকা মেডিক্যালে যান আহত ছাত্রদের দেখতে। ঢাকা মেডিক্যালের আউটডোরে তিনি মাথার খুলি উড়ে যাওয়া একটি লাশ দেখতে পান, যেটি ছিল ভাষা শহীদ রফিকের লাশ। লাশটি দেখে তার মনে হয়, এটা যেন তার নিজের ভাইয়েরই রক্তমাখা লাশ। তৎক্ষণাৎ তার মনে গানের প্রথম দুইটি লাইন জেগে উঠে। পরে কয়েকদিনের মধ্যে ধীরে ধীরে তিনি গানটি লিখেন। ভাষা আন্দোলনের প্রথম প্রকাশিত লিফলেটে এটি ‘একুশের গান’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়।
গানটি একটি খবরের কাগজের শেষের পাতায় একুশের গান শিরোনামে প্রথম প্রকাশিত হয়। তখন গীতিকারের নাম ছাপা হয়নি। পরে অবশ্য গীতিকারের নাম ছাপা হয়। ১৯৫৪ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত একুশে সঙ্কলনে প্রকাশিত হয় গানটি। তৎকালীন সরকার সঙ্কলনটি বাজেয়াপ্ত করে। তৎকালীন যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কবিতাটি আবদুল লতিফকে দিলে তিনি এতে সুরারোপ করেন। আবদুল লতিফ তখন এটি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাওয়া শুরু করেন। ঢাকা কলেজের কিছু ছাত্র কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার স্থাপনের চেষ্টা করার সময়ও গানটি গেয়েছিল। গানটি গাওয়া ও লেখার অপরাধে ঢাকা কলেজ থেকে ১১ জন ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
বাঙালিকে এক করেছে ‘একুশের গান’
বাংলা ভাষা আন্দোলনের ঘটনা, শহীদদের অবদান স্মরণসহ ভাষা সংগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত অনেক বিষয়ই ফুটে উঠেছে একটি গানে। গানটি বাঙালি জাতিকে আবদ্ধ করেছে একটিমাত্র বন্ধনে। গানটি...



