বাংলাদেশের পাসপোর্টে ‘এক্সসেপ্ট ইসরাইল’ লেখা পুনর্বহাল করতে হবে। আমরা যতই দুর্বল হই না কেন, আমাদের চেতনা জাগ্রত রাখতে হবে। আমরা জালিমের প্রতিরোধ না করতে পারলেও যেন মজলুমের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করি।
গতকাল রোববার বিকেলে এশিয়াটিক সোসাইটির মিলনায়তনে ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে চতুর্থ আন্তর্জাতিক কুদস সপ্তাহ উপলক্ষে ‘গাজ্জায় গণহত্যার ইতিবৃত্ত : মানবতার দায়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের তুরস্ক দূতাবাসের রিলিজিয়াস এফেয়ার্স-বিষয়ক কো-অর্ডিনেটর ওজগুর ওজইউরেক। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ অ্যাম্বাসেডর মুহাইমিনুল হাসান রিয়াদ।
সেমিনারে ‘ফিলিস্তিনের দুঃসময়ে আরব বিশ্বের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. যুবায়ের মোহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, এই আলোচনার কারণ গাজা বা ফিলিস্তিনের আদি বাসিন্দারা আরব। যদিও ইসরাইলিরা এর ভিন্ন একটি ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে হাজার বছর ধরে এর আদি বাসিন্দা আরবরাই। বর্তমান ও প্রাচীন উভয় সময়ের ইহুদিরাই এখানে বহিরাগত।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমানরা বাইডেনকে উপাধি দিয়েছে গণহত্যার জনক। তাই বলে তাদের উচিত হবে না ট্রাম্প বা নিকি হ্যালিকেও সমর্থন করা, কারণ তিনি ক্ষমতায় আসার আগেই ইসরাইলের পক্ষে অনেক কিছু করে বসে আছেন। আমরা তাদের কাছে ভালো কিছু আশা করতে পারি না। আমরা তাদের কাছে আশা করতে পারি না যে, তারা ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করে দেবে। কেননা আজকেও তারা ইসরাইলকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করার কথা শোনা গেছে। আমাদের কাজ আমাদেরকেই করতে হবে। আরবরা ফিলিস্তিনের জন্য কিছুই করেনি ঢালাওভাবে এটাও বলা ঠিক হবে না। তারা বিভিন্ন সময় নানাভাবে সাহায্য করেছে।

তিনি আরো বলেন, অনেক আরব রাষ্ট্র চায় ফিলিস্তিনিরা যুদ্ধ না করে ইসরাইলের সাথে মিলেমিশে থাকুক; কিন্তু ফিলিস্তিনিরা সেটি চায় না, তারা স্বাধীনতা চায়, তারা আল-আকসাকে মুক্ত করতে চায়। হামাস কখনোই চায় না আরব দেশগুলো তাদের জন্য সেনাবাহিনী পাঠাক। তারা চায় আরব দেশগুলো ইসরাইলিদের ওপর বিভিন্ন চাপ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে ইসরাইলকে দুর্বল করুক। কিন্তু এটি হওয়ার নয়। কারণ এই আরব দেশগুলোকে রাজতান্ত্রিক, মার্কিনিদের মদদপুষ্ট হওয়ায় তারা তাদের ক্ষমতা হারানোর ভয়ে যুক্তরাষ্ট্র রুষ্ট হোক এটা কখনোই চাইবে না। তাই মুখে অল্প কয়েকটি কথা বলা বা কিছু আর্থিক সাহায্য করা ছাড়া আর কোনো কিছু এই আরব দেশগুলো করবে না।
ড. যুবায়ের বলেন, সবমিলিয়ে মূলকথা হলো, নিজেদের কাজটি নিজেদেরই করতে হবে, আর সেটি আরবরা করবে না জেনেই হামাস নিজে নিজে করে যাচ্ছে। আমাদের উচিত হবে, মুক্তির সংগ্রামের চেতনাটাকে জাগ্রত রাখা। মুক্তির সংগ্রামটাকে জাগিয়ে রাখতে হবে। কাশ্মির ইস্যুর মতো অনেক ইস্যু হারিয়ে গেছে কোনো আলোচনা না থাকায়। তাই আমাদের চেতনাকে জাগ্রত রাখতে হবে, আমরা দুর্বল হলেও জোরে চিৎকার করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যনেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম অপু তার ‘ফিলিস্তিনে মানবাধিকার লঙ্ঘন : তারুণ্যের করণীয়’ শীর্ষক বক্তব্যে বলেন, আমাদের দেশের তরুণ মুসলিমরা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগছি। সবচেয়ে বড় সমস্যা আমাদের এটাই। আমরা আমাদের শত্রু ও বন্ধু চিনতে পারছি না। আমাদের কাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে আর কাদের পক্ষে লড়তে হবে না, এটা আমাদের তরুণরা জানতে পারবে না এটার জন্য সিনিয়ররা তাদের সাহায্য করবে।

তিনি বলেন, আমাদের ইয়ুথরা বিপথগামী হচ্ছে, আস্তে ধীরে আমাদের পাঠ্যক্রমে ধর্মীয় বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এই বয়সের তরুণরা কারো না কারো পক্ষে থাকবে, তারা ভালোতে যাবে নাকি খারাপে যাবে এটার দায়িত্ব আমাদের সিনিয়র স্কলারদের নিতে হবে। বর্তমান তরুণদের কাজ হবে ইনসাফের জন্য, তাদের কাজ হবে না মাসলা-মাসায়েল নিয়ে তর্ক করা। এই পুওর চিন্তা আর চলতে দেয়া যায় না।
কবি ও সাহিত্যিক আবদুল হাই শিকদার ‘ফিলিস্তিনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক : একাত্তর থেকে বর্তমান’ শীর্ষক বক্তব্যে বলেন, আরব বিশ্বের শাসক একেকজন ভণ্ড প্রতারক। নিজেদের দেশের মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে, তাদের দেশ থেকে আমাদের দেশের মা-বোনেরা যখন ফিরে আসে তখন আমরা বুঝতে পারি তারা আসলে কী। তারা আবার ধর্মের দোকান দিয়ে বসে আছে। আমি চাইব সেসব মুসলমানরা ধ্বংস হোক যারা ইসরাইলের তল্পি বহনকারী জন্তু-জানোয়ার। আমাদের তাদের সাথে সম্পর্ক করতে হবে যারা ফিলিস্তিনিদের সাথে আছে। ওআইসি একটি জোকার সংগঠন। আফ্রিকার কালো মানুষগুলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে অথচ আরব মুসলিমরা গণহত্যাকারীদের কোমড় জরিয়ে ধরে নৈশভোজ করছে।