ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে নিয়ে এসে নির্যাতনের ঘটনায় আটক চারজনকে কারাগারে প্রেরণ করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। গত রোববার তাদের আদালতে হাজির করা হয়। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকার আদালতের হাতিরঝিল থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই এশারত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কারাগারে প্রেরণকৃত চারজন হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক উপদফতর সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হাসান সাঈদি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের প্রচার উপসম্পাদক মুনতাসির হোসাইন, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও মুহসীন হল ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ উপসম্পাদক আল শাহরিয়ার মাহমুদ তানসেন এবং মুনতাসিরের আত্মীয় শাহাবুদ্দিন।
এর আগে গত শনিবার রাত ৯টার দিকে হলের ৫৪৪ নাম্বার রুম থেকে ঢাবি প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় শাহবাগ থানা পুলিশ দুজন অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। অপহৃত দুই ব্যক্তি হলেন- মোহাম্মদ আব্দুল জলিল ও হেফাজ উদ্দিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ব্যবসার জন্য জলিল শাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ধার নেন। তবে শাহাবুদ্দিন তার কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তালবাহানা করতে থাকেন জলিল। এতে দীর্ঘদিন ধরে টাকা দিতে দেরি করছিলেন তিনি। পরে শাহাবুদ্দিন কয়েকজনকে সাথে নিয়ে জলিলকে তার হাতিরঝিল থানার হাজিপাড়ার বাসা থেকে অপহরণ করেন। এ সময় তাদের প্রথমে বিজয় একাত্তর হলে পরবর্তীতে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ৫৪৪ নাম্বার কক্ষে আটকে রাখেন। এ সময় জলিলকে টাকা দিতে চাপ দেয়া হয় এবং মারধর করা হয়।
সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড মো: মাকসুদুর রহমান বলেন, আমরা প্রথমে পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারি মুহসীন হলের পাঁচতলায় আমাদের কয়েকজন ছাত্রের সহযোগিতায় দুইজনকে তুলে আনা হয়েছে। টাকা আদায়ের উদ্দেশে তাকে মারধরও করা হয়েছে। পরে শাহবাগ থানা ও হল প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা তাদের উদ্ধার করি এবং অপহরণকারীদের হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করি।