ইংরেজিতে নাম লেখা রয়েছে শাহ কামাল পিংকন (আতঙ্ক), পরিচয় স্থানীয় গুণ্ডা। পেজের ছবিতে রয়েছে কয়েকজন কিশোর। এরা শাহ কামালের অনুসারী। স্থানীয় সূত্র বলেছে, এরা সবাই মিলে একটি কিশোর গ্যাং এবং এলাকার ত্রাস। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সম্পর্কে অবগত থাকার পরেও তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এলাকার মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেই রয়েছে তাদের হাত। কেউ তাদের প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে অত্যাচার নির্যাতন। নিজেদেরকে গুণ্ডা পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবে জানান দেয়ার পরেও সবাই যেন নির্বিকার। স্থানীয় সূত্র বলেছে, এই গ্রুপটি রাজধানীর কদমতলী এলাকার মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বললে উল্টো পুলিশ দিয়ে প্রতিবাদকারীদের হয়রানিরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরূপ রাজধানীর আরো অনেক এলাকা রয়েছে যেখানে কিশোর অপরাধীরা ঘোষণা দিয়ে নানা অপরাধ তৎপরতা চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এই পিংকন ও তার ভাই পলাশ ভাণ্ডারির মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করেছিলেন স্থানীয় কিছু মানুষ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কদমতলীর মুরাদপুর মাদরাসা রোডের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে ওই বাহিনী। এই চাঁদার টাকা না পেয়ে গত ৬ মার্চ আলমগীর হোসেনের বাসার সামনে নিয়ে তার ছেলে ইকবালের (২৮) ওপর হামলা চালায় এই পিংকন বাহিনী। এ সময় আলমগীরের ভাই আবুল বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তার ওপরও ব্যাপক হামলা চালায়। এতে আবুল ও ইকবাল গুরুতর আহত হন। পরে আলমগীরের আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা চলে যায়। এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন কদমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই পিংকনের বড় ভাই হচ্ছে পলাশ। মূলত পলাশই এই গ্রুপের নিয়ন্ত্রক। আর মাঠে নেতৃত্ব দেয় পিংকন। নিজেদেরকে আতঙ্ক হিসেবে জানান দিয়ে এলাকার মাস্তান বলে পরিচয় দেয় তারা। ফলে অনেকেই ভয়ে কিছু বলে না। এই সুযোগে তারা মাদকের ব্যবসা ও চাঁদাবাজি করে। এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আসলেই এই গ্রুপটি এলাকার মানুষের জন্য আতঙ্ক। তবে কদমতলী থানার ওসি বলেছেন, এমন কোনো গ্রুপের নাম তার জানা নেই। তিনি থানায় নতুন যোগদান করেছেন বলে উল্লেখ করে জানান, পুরাতন অফিসারদের কাছেও জিজ্ঞেস করেছি। কিন্তু এই নামের কোনো বাহিনী আছে বলে জানাতে পারেননি কেউ।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এরূপ কিশোর অপরাধীরা এখন দাপটের সাথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কয়েকটি অভিযান চালায় কিশোর অপরাধীদের গ্রেফতার ও তাদের তৎপরতা বন্ধের জন্য। কোনো কোনো এলাকায় কিশোর অপরাধীরা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হলেও অধিকাংশ এলাকায় তারা এখনো আতঙ্ক। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা এলাকায় বিকেল হলেই দেখা যায় কিশোর অপরাধীদের তাণ্ডব। নম্বর প্লেট ছাড়া মোটরসাইকেলগুলো তাদের বাহন। এক একটি মোটরসাইকেলে ২-৩ জন উঠে বেপরোয়াভাবে তারা রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। ধার্মিকপাড়ার পর্যটন স্পটে তাদের মূল আস্তানা। এখানে ঘুরতে আসা অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কিশোর অপরাধীদের জন্য তারা নির্বিঘেœ ব্যবসা করতে পারেন না। তারা এখানে ঘুরতে আসা মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করে।