রংপুরের পীরগাছায় আন্তঃনগর ট্রেন থামানোর দাবিতে পাঁচদিন থেকে আন্দোলন করছেন স্থানীয় সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। মাঠে বিভিন্নজন বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য কথা বললেও আন্দোলনের মাঠে সবাই এক। পীরগাছার উন্নয়নে সবাই একই সাথে আন্দোলন করছেন প্রতিনিয়ত।
পীরগাছা সরকারি কলেজ হলরুমে গত ১০ মার্চ পীরগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বানে এক জরুরি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। মিটিংয়ে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় উদ্বোধনের দিনেই (২২ মার্চ) বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামানো হবে। এ দিকে ১১ মার্চ দুপুরে বুড়িমারী ট্রেন থামানোর জন্য করা হয় মানববন্ধন। ১২ মার্চ রাত থেকেই প্রতি দিন ঢাকায় যাওয়ার সময় এবং আসার সময়ে ৩ মিনিটি করে ট্রেনটি থামিয়ে রাখা হচ্ছে। পীরগাছা রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতির দাবিতে উদ্বোধনের দিন থেকে প্রতিদিন আসা-যাওয়ার পথে আন্তঃনগর বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনকে আটকে রাখছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ও রাত ১০টায় চতুর্থ দিনের মতো ট্রেনটিকে ওই স্টেশনে ৩ মিনিট আটকে রাখা হয়। এ সময় ট্রেন থামাতে পীরগাছা স্টেশন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ অবস্থান নেয়। এর আগে উদ্বোধনের দিন মঙ্গলবার (১২ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই স্টেশনে ট্রেনটিকে ৩৫ মিনিট আটকে রাখা হয়। পরে রেলওয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আশ্বাসে ছেড়ে দেয়া হলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন আসা-যাওয়ার পথে ন্যূনতম ৩ মিনিট ট্রেনটিকে ওই স্টেশনে থামিয়ে রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। ঘোষণা মোতাবেক প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ট্রেনটিকে আটকে রাখছেন তারা।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পীরগাছা উপজেলার সভাপতি তছলিম উদ্দিন বলেন, ট্রেনটি থামানো খুবই জরুরি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পীরগাছা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মিলন বলেন, আমাদের এমপি সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সাথে এ বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি আমাদের ঢাকায় ডেকেছেন। আমরা ঢাকায় যাব। আশা করছি, শিগগিরই পীরগাছায় স্টপেজের বিষয়ে পরিপত্র জারি হবে। তবে পরিপত্র না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ কর্মসূচি চলবে।
পীরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মাহবুবার রহমান বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
পীরগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, প্রতিদিন বুড়িমারী এক্সপ্রেসকে আটকে রাখছেন স্থানীয়রা। ৯ মার্চ বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটির যাত্রাবিরতি পীরগাছায় না থাকার বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র বিষয়টি নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন স্থানীয়রা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মার্চ দুপুরে পীরগাছা সরকারি কলেজে ট্রেনটির যাত্রাবিরতির লক্ষ্যে করণীয় নির্ধারণের জন্য সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী সরকারসহ সব রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের নেতারা অংশ গ্রহণ করেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১ মার্চ দুপুরে পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে উপজেলা নাগরিক কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মাহুতির ঘোষণা দেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী সরকারসহ বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১২ মার্চ পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা থেকে পীরগাছা রেলস্টেশন চত্বরে দলে দলে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ জমায়েত হতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ট্রেনটি পীরগাছা স্টেশন অতিক্রম করতে থাকলে বিক্ষুব্ধ জনতা রেলপথ অবরোধ করে ট্রেনটিকে ৩৫ মিনিট আটকে রাখার পর ছেড়ে দেন। আমাদের আন্দোলন চলছে। দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।



