আজ মাহে রমজানের সপ্তম দিবস। এ মাসের রোজার বিনিময়ে অসামান্য প্রতিদান দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি বলেছেন : ‘আদম সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ থেকে ২৭ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন; কিন্তু সিয়ামের বিষয়টা ভিন্ন। কেননা সিয়াম শুধু আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেবো।’ (মুসলিম শরিফ)
সারা জাহানের সর্বশক্তিমান প্রতিপালক আল্লাহ নিজেই যখন এর পুরস্কার দেবেন তখন কী পরিমাণে দেবেন? ইমাম আওজায়ী রহ:-এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহ যে সিয়াম আদায়কারীকে প্রতিদান দেবেন তা মাপা হবে না, ওজন করা হবে না। কিন্তু অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগি ও সৎ কর্মের প্রতিদান হিসাব করে দেয়া হবে।
সিয়াম শয়তান ও কুপ্রবৃত্তি থেকে সুরক্ষার ঢালস্বরূপ। সিয়াম পালনের মাধ্যমে রাসূলুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুপ্রবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন : হে যুবকরা! তোমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা বিবাহ দৃষ্টি ও লজ্জাস্থানের সুরক্ষা দেয়। আর যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সিয়াম পালন করে। কারণ এটা তার রক্ষা কবচ। (বুখারি ও মুসলিম)

এমনিভাবে সিয়াম সব অশ্লীলতা ও অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত রাখে। রাসূলুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : সিয়াম হল ঢাল। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে সিয়াম পালন করবে সে যেন অশ্লীল আচরণ ও শোরগোল থেকে বিরত থাকে। যদি তার সাথে কেউ ঝগড়ায় বা বিবাদে লিপ্ত হতে চায় তবে তাকে বলে দেবে আমি রোজাদার। (মুসলিম)
সিয়াম পালনকারী যেমনি নিজের অন্তরকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে তেমনি সব অশ্লীল আচরণ, ঝগড়া-বিবাদ, অনর্থক কথা ও কাজ থেকে নিজের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে হেফাজত করবে। সিয়াম জাহান্নাম থেকেও বাঁচার ঢাল। বোখারি ও মুসলিমের হাদিসে এসেছে- ‘যে ব্যক্তি এক দিন আল্লাহর পথে সিয়াম পালন করবে, আল্লাহ তার থেকে জাহান্নামকে এক খরিফ (সত্তর বছরের) দূরত্বে সরিয়ে দেবেন।’ (মুসলিম)
ওলামায়ে কেরাম বলেন, আল্লাহর পথে সিয়াম পালনের অর্থ হলো : শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সিয়াম পালন করা। এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা বহু সিয়াম পালনকারীকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। হাদিসে এসেছে, ইফতারের সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর এটা রমজানের প্রতি রাতে। ( মুসনাদে আহমদ)
সিয়াম ইহকাল ও পরকালের সাফল্যের মাধ্যম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সিয়াম পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দ : একটি হলো ইফতারের সময়, অন্যটি তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের সময়। (বুখারি ও মুসলিম )
ইফতারের সময় আনন্দ হলো এ কারণে যে সিয়াম পূর্ণ করা হলো এবং খাবার-দাবারের অনুমতি পাওয়া গেল। এটা সত্যিই আনন্দের বিষয় যা আমারা বুঝতে পারি ও অনুভব করি। অপর দিকে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের যে আনন্দ তা অনুভব করতে আমরা এখন না পারলেও কেয়ামতের দিন পারা যাবে।