মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলের রাখাইন রাজ্য ঘিরে চলা জান্তা বিরোধী সঙ্ঘাত বেশ বেগবান হয়। এত দিনে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান আর্মির কতদূর এগিয়েছে- সেটি এখন বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এই অবস্থায় সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সীমান্তে বসবাসকারীদের মধ্যে। স্থানীয়রা বলছেন, আরাকানে সঙ্ঘাতময় এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর কেউ কেউ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আরাকান আর্মির সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে। কোনো কোনো সংগঠন আবার মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ফেলে যাওয়া অস্ত্রগুলো নিয়ে প্রবেশ করছেন বাংলাদেশে। স্থানীয়রা এমন ২৩ জনকে আটকের পর বিজিবির হেফাজতে নিয়ে তাদেরকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১২টি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম হোসেন বলেন, এই ২৩ জন ব্যক্তি সশস্ত্র ছিল। যাদের অনেকের কাছে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কার্ড ছিল। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। তবে তারা কেন যাচ্ছে? কিভাবে যাচ্ছে এই প্রশ্ন আমাদেরও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের বেশির ভাগ নবী হোসেনের নেতৃত্বাধীন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্য। আটক হওয়ার আগের রাতে আরাকান আর্মির সাথে তাদের যুদ্ধ হয়। এতে তাদের দশজনের মতো মারাও গেছে। তিনি জানান, তারা আরাকান আর্মির সাথে যুদ্ধে টিকতে না পেরে কেউ কেউ পালিয়ে এসেছেন। তাদেরকেই মূলত স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। প্রশ্ন থেকে যায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যুদ্ধেই বা কেন জড়াচ্ছে বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো? রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জুনাইদ নামে এক শিক্ষিত যুবকের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সশস্ত্র সংগঠনগুলো সবাই চায় নিজেদের শক্তি জানান দিতে। তাদের জন্য দশ লাখ রোহিঙ্গা কষ্ট পাচ্ছে।
১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সুলতান আহমদ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র একাধিক গ্রুপ রয়েছে। তাদের কারণে সাধারণ রোহিঙ্গারা সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকেন। রোহিঙ্গা, স্থানীয় ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যাচ্ছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এই সঙ্ঘাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক আরসা, আরএসও এবং নবী হোসেনের নেতৃত্বাধীন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) গ্রুপ নামে তিনটি পক্ষ কম বেশি সক্রিয়। উখিয়ার রহমতেরবিল এলাকা থেকে অস্ত্র ও বাহিনীর পোশাকসহ একজনকে আটক করে তখন স্থানীয়রা বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন। তখন তার কাছে পরিচয় চাওয়া হয়। অত্যাধুনিক রাইফেল ও গোলাবারুদসহ গ্রামবাসীর হাতে আটক হওয়া ওই ব্যক্তি তখন বলেছিল সে নিজেকে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) সদস্য বলে পরিচয় দেন। এই রোহিঙ্গা সংগঠনটি বেশি সক্রিয় কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে। এ ছাড়াও সক্রিয় রয়েছে নবী হোসেনের নেতৃত্বাধীন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির (এআরএ)। গত ৫ ফেব্রুয়ারি এআরএর অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে একটি ভিডিও আপলোড করা হয় নবী হোসেনের। সেখানে অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশে দাঁড়িয়ে নবী হোসেন বলছিলেন, আমরা মিয়ানমার বিজিপিকে মেরে এই অস্ত্রগুলো পেয়েছি। হে রোহিঙ্গা জোয়ান (তরুণ) তোমরাও আসো, তোমাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা। আরেকটি সূত্র জানায়, মাঝেমধ্যে রাতে যে গোলাগুলি হয় তা মূলত নবী হোসেনের বাহিনীর সাথে আরএসও এবং আরাকান আর্মির মধ্যে হয়ে থাকে। আরাকান আর্মি যখন দেখেছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করার জন্য নবী হোসেন গ্রুপ এই যুদ্ধে। তখন আরাকান আর্মি সেটির দখল নিজেদের কাছে নিয়ে নিয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সঙ্ঘাতে আরেকটি রোহিঙ্গা সংগঠনের নাম আসছে বেশ জোরেশোরে। সেটি হচ্ছে আরসা বা আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির। যদিও উখিয়া-টেকনাফ ও ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় সংগঠনটির পরিচিতি আল ইয়াকিন নামেই। মিয়ানমার জান্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে আরসার এই শত্রুতা পুরনো।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরসার হামলার পরই রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে মিয়ানমার সরকার। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পর আরসা মাদক, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির কারণে তাদের সাধারণ ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা পছন্দ করে না। মিয়ানমারের সঙ্ঘাতে আরসার অনেক সদস্য ক্যাম্প থেকে যাওয়ার বিষয়টি রোহিঙ্গারা জানলেও ভয়ে মুখ খুলতে চান না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রোহিঙ্গা বলেন, এরা মাঝে মধ্যেই ওপারে যায়। এবার যুদ্ধের খবর পেয়ে এখান থেকেও অনেকে গেছে বলে আমরা শুনেছি। ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ক্ষোভ আগে থেকেই। যখন রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো দেখেছে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি অনেকটা শক্তি নিয়ে যুদ্ধ করছে জান্তাদের বিরুদ্ধে, এখন এসব সংগঠনগুলোর কেউ কেউ যুদ্ধে গেছে। স্থানীয় তরুণ রবিউল হোসেন বলেন, মূলত সঙ্ঘাতময় এলাকায় নিজেদের আধিপত্য তৈরি করে অস্ত্র ও গোলা বারুদ দখলে নেয়াই এদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, আরাকান আর্মির সাথে আরএসও যুদ্ধ করছে। নবী হোসেন গ্রুপ মূলত মাদক কারবারি। ওখান থেকে অস্ত্র লুট করবে, কিংবা মাদক (ইয়াবা) পাচার করবে। এ কারণেই তারা ওইপাশে গেছে যুদ্ধ করতে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের সাথে নবী হোসেনও এসেছিলেন। ৮ ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার বসবাসের ঠিকানা হলেও নবী হোসেন থাকেন মিয়ানমারের গহিন জঙ্গলে। সেখানেও এখানে ক্যাম্পে তার আস্তানা এবং বিশাল সশস্ত্রবাহিনী রয়েছে। মিয়ানমার-বাংলাদেশ রুটে মাদক চোরাচালানের অন্যতম হোতা এই নবী হোসেন বা এআরএ গ্রুপ। যুদ্ধের চেয়েও বড় আগ্রহ তাদের অস্ত্র লুট মাদক ব্যবসার পরিধি বাড়ানো। আরাকান আর্মি গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধ আরো বিস্তার ঘটে। বর্তমানে ১৬০টিরও বেশি ঘাঁটি এবং চৌকি দখলে আছে তাদের। (বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ৬০টির অধিক চৌকি এর মধ্যে রয়েছে)। রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ের কাছে পাউকতাও শহর এবং প্রতিবেশী চীন রাজ্যের পালেতওয়া শহরও তারা দখল করেছে। বর্তমানে মিয়ানমারের মোট আয়তন ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৫৫২ বর্গকিলোমিটারের ৫৩ শতাংশ এলাকা জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহীদের দখলে এবং ১৭ শতাংশ এলাকায় সঙ্ঘাত চলমান, ৩০ শতাংশ এলাকায় জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ইরাওয়াদ্দি সংবাদপত্র দাবি করছে। আরাকান অঞ্চলের একাংশে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত। এপারে অবস্থান কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ উপজেলার কয়েকটি এলাকার। বেশ কিছুদিন দিনের বেলা গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে রাত গড়ালেই সঙ্ঘাত তীব্র থেকে তীব্র হতে থাকে, যা-চলে ভোর পর্যন্ত এমনটা জানিয়েছেন টেকনাফ সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা।
এদিকে উখিয়া-টেকনাফে অবস্থান করছে মিয়ানমারের নাগরিক প্রায় বারো লাখ রোহিঙ্গা। আরাকান আর্মির সাথে টিকতে না পেরে গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিজিপির সদস্যরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময়ে নতুন করে কিছু রোহিঙ্গাও সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ঢুকে পড়ে বাংলাদেশে। বিজিবির তথ্য বলছে, কিছু রোহিঙ্গাকে স্থানীয়রা আটক করে বিজিবির হাতে তুলে দেয়, অস্ত্রসহ আটকের পর বিজিবি তাদের হেফাজতে নিয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে আটক রোহিঙ্গারা উখিয়া ৮ ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নবী হোসেন বাহিনীর (আরএসও) সদস্য বলে জানা গেছে। তারা সীমান্তের ওপারে বিজিপির (মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী) হয়ে কাজ করত বলে দাবি করে। মূলত নবী হোসেন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে থেকে ইয়াবা, আইস ও অস্ত্র পাচারসহ নানা অপরাধ পরিচালনা করত। তাই তাকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল বিজিবি। আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ব্যর্থ অভিযানের ফলে জান্তা সরকারের জাতিগত নিধনের ফলাফল হিসেবে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর থেকে নবী হোসেন উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের পুঠিবনিয়া ও সফিউল্লাহ কাটা এলাকায় রাজত্ব কয়েম করে রেখেছে। বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী নবী হোসেন গ্রুপের সহযোগী হিসেবে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও রোহিঙ্গারা কাজ করছে। এ ছাড়া পালংখালী আনজুমানপাড়া, বটতলী সীমান্তে থাকা অপরাধীরা রাতের অন্ধকারে মিয়ানমারের ওপারে গিয়ে অস্ত্র ও ইয়াবা লুট করে এপারে নিয়ে আসছে। তবে লুটকারীরা অস্ত্রধারী হওয়ায় সহজে কেউ মুখ খুলছেন না। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভয়ঙ্কর রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনী। এখন সত্য কথাও বলা মুশকিল। ভয়ে সাধারণ মানুষ সীমান্ত এলাকায় যায় না। আমার কাছেও অস্ত্র লুটের খবর এসেছে। সে দিন ২৩ জনকে আটক করা হলেও অনেকে অনেকভাবে ক্যাম্পে প্রবেশ করেছে। কিন্তু সঠিক তথ্য না পেলে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। যদি অস্ত্র মজুদের তথ্য সঠিক হয়ে থাকে তবে দ্রুত অস্ত্রগুলো জমা দিতে হবে।
অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি হতে পারে। সার্বিক দিকবিবেচনা করলে অনুধাবন করা যায় কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে গৃহযুদ্ধ। এক দিকে যেমন সীমান্তে অনুপ্রবেশ বাড়ার আশঙ্কা, অন্য দিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। রাখাইন রাজ্যের বেশির ভাগ এলাকা এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। শুধু রাজধানী সিত্তে জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। জান্তা সরকারের পুনরায় দখলের চেষ্টা নতুনভাবে সীমান্তে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা আরো বাড়িয়ে দেবে। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর একের পর এক সংঘর্ষের ফলে প্রায় ৯ লাখের অধিক অভ্যন্তরীণ শরণার্থী তৈরি করেছে, যা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। স্থানীয়রা মনে করছেন রাখাইন অঞ্চলে আরাকান আর্মির প্রভাব বাড়লে সেটি আরএসওকে শক্তিশালী করবে এবং আরাকান আর্মির সাথে আরসার সঙ্ঘাত আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন।
মিয়ানমারে প্রায় ৩৭টিরও বেশি জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী রয়েছে। যারা ২০২১ সালে অং সান সু চিকে পুনরায় বন্দী করার মাধ্যমে জান্তা সরকারের ক্ষমতা দখলের পর আরো ব্যাপকভাবে আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। গত বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের অপারেশন শুরু হয়। যার উদ্দেশ্য ছিল মিয়ানমারের বেসামরিক নাগরিকদের জীবন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বেসামরিক নাগরিকদের আত্মরক্ষার অধিকার, মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, জান্তা প্রশাসন পরিষদের দ্বারা সংঘটিত চলমান আর্টিলারি আক্রমণ এবং বিমান হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, অত্যাচারী সামরিক শাসন নির্মূল করা, মিয়ানমারের ব্যাপক অনলাইন জুয়ার জালিয়াতি বিস্তার রোধ করা। এই অপারেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল চীন-মিয়ানমার সীমান্ত বরাবর জান্তা বাহিনীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা। এই অপারেশন (১০২৭) শুরুর মূল কারণ হিসেবে চীনের প্রভাবশালী ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরে জান্তার কাছ থেকে অনুকূল ছাড়ের অন্বেষণ এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে প্রভাব অর্জনের সুযোগ- এসবই রয়েছে চীনা নীতিনির্ধারকদের চিন্তায়। থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছে চীনের সাথে। চীনের সীমান্তে এবং চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর বরাবর সংঘর্ষ পরিচালনায় চীনকে ভূমিকা পালন করার অনুমতি দেয় তারা।



