যশোরের চৌগাছায় পানির অভাবে পাট জাগ দেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। বর্ষার ভরা মৌসুম হলেও বৃষ্টির দেখা তেমন মেলেনি। মাঝে-মধ্যে দু-এক পশলা বৃষ্টি হলেও তা খাল বিলে জমেনি। উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে কপোতাক্ষ নদ। তবে গেল বছর থেকে নদ খননের কাজ শুরু হয়েছে। ফলে নদে পাটজাগ দিতে পারছেন না নদের দু’ পাড়ের চাষিরা। এদিকে এলাকার বিল-বাঁওড়গুলো সরকার ব্যক্তি মালিকানায় লিজ দেয়ায় বিল-বাঁওড়ে পাট জাগ দিতে দেয়া হচ্ছে না। ফলে পাট জাগ দেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের পাটচাষি জহিরুল ইসলাম বলেন, এবার চাষের শুরুতে চাষিদের বৈরী আবহাওয়া মোকাবেলা করতে হয়। বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে পাট বীজ বুনতে হয়েছে। খরার সময়ে পাটের জমিতে মাঝে মধ্যে সেচ দিতে হয়েছে। এতে পাট চাষের খরচ বেড়ে গেছে। বর্তমানে কোনো কোনো এলাকায় আগাম জাতের পাট কাটা শুরু হয়েছে। এ পাট কেটে অনেকে আমন ধান রোপণ করছেন। খাল-বিলে পানি না জমায় দূরে নিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে। ঋতু পরিক্রমায় বর্ষাকাল চলছে। কিন্তু বর্ষার রূপ আকাশে ঘন কালো মেঘ, ঝমঝম বৃষ্টি নেই। মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত খালবিলে পানি আসেনি, ভরেনি নদ-নদী। এ বছর পাটের দামও ভালো। কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দেয়া নিয়ে মহা-দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পাটচাষিরা।
সরেজমিন গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার নারায়ণপুর, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, স্বরূপদাহ, ফুলসারা, চৌগাছা সদর ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কিছু কিছু এলাকায় পাট কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। তবে পাট ভালো হলেও পানির অভাবে জাগ দিতে পারছেন না কৃষকরা। অনেকে কেটে জমিতে রেখে দিয়েছেন।
উপজেলার রাজাপুর গ্রামের চাষি আতিয়ার রহমান জানান, এবার চাষ করা পাটের ভালো ফলন হবে। তবে পাট জাগ দেয়া নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আছি। আমরা পাট কাটা শুরু করেনি। তবে আমাদের এলাকায় আগাম বুনা পাট অনেকে কাটছেন। নতুন পাট বাজারে প্রতি মণ দুই হাজার ৮৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা পাট উন্নয় কর্মকর্তা নিপা বিশ্বাস বলেন, উপজেলায় এ বছর ২৫৭৫ জন কৃষক পাট চাষ করেছেন। এ অঞ্চলে এবার পাট ভালো হয়েছে। তবে পানি ও জায়গার অভাবে পাট জাগে সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে সমস্যা কেটে যাবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, চলতি বছর উপজেলায় জি আর ও ৫২৪ জাতের ১৮৬০ হেক্টর ও তুষা ৮ রবি জাতের দুই হাজার এক শ’ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় পাট কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। তবে পাট ভালো হলেও পানির অভাবে জাগ দিতে পারছেন না কৃষকরা। পাট জাগ দেয়া নিয়ে চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।



