নতুন আইজি প্রিজন ব্রি. জেনারেল সৈয়দ মোতাহার হোসেন বলেছেন, কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার, জেল সুপার ও কারারক্ষীসহ সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে আশা করছি কোনো কারাগারে আর বিদ্রোহের ঘটনা ঘটবে না। আমি সেভাবেই সবাইকে নিয়ে কাজ করব। এ ছাড়াও দেশের প্রতিটি কারাগারে আটক বন্দীরা যাতে আমাদের কাছ থেকে সঠিক সেবা পান তা নিশ্চিত কাজ করে যাব। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তিনি নয়া দিগন্তকে এ কথা বলেন।
এর আগে বিদায়ী কারা মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম আনিসুল হক গত রোববার সৈয়দ মোতাহের হোসেনকে বুঝিয়ে দেন।
নতুন আইজি প্রিজন বলেন, আমি মনে করি এই মুহূর্তে কারাগারে দায়িত্বরতদের কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে। তারপরও অনেক কষ্ট করে কারাগারের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বরত জেলার, জেল সুপার ও কারারক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বলতে গেলে তারা অনেকটা চাপের মধ্যে থেকে কাজ করছেন। যদিও তাদের অনেক ক্ষেত্রে লিমিটেশন রয়েছে। তারপরও আইজি প্রিজনের দায়িত্ব নেয়ার পর আমার কাজের পরিকল্পনার মধ্যে যেটা আছে সেটা হচ্ছে কারাগারগুলোকে সেবায় পরিণত করতে হবে। পাশাপাশি কারারক্ষীদের সুযোগ-সুবিধাগুলোও আমরা ধাপে ধাপে বাড়ানোর চেষ্টা করে যাব। একই সাথে কারাগারে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুসংগঠিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে আমার টার্গেট।

সাম্প্রতিক সময়ে কারাগারে একের পর এক বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে গেছে। আরো কারা বিদ্রোহের আশঙ্কা আছে। এ নিয়ে করণীয় কী হতে পারে। এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কারা বিদ্রোহ ঠেকাতে আমরা সবাইকে উদ্বুদ্ধ করছি। কারাগারের জেলার, জেল সুপার, কারারক্ষী ও আটক বন্দীদের যার যার জায়গা থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নিলেই কিন্তু আর কোনো কারাগারে বন্দী বিদ্রোহের ঘটনা ঘটবে না বলে আমি মনে করি। অপর এক প্রশ্নে আইজি প্রিজন বলেন, কারা বিদ্রোহের ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের বিষয়গুলোও আমরা সহানুভীতির সাথে দেখব।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনের ঢেউ লাগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে। এর মধ্যে প্রথমে নরসিংদী জেলা করাগারে আন্দোলনকারী ও বিক্ষোভকারীরা এই প্রধান গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় কারাগারে আটক ৮২৬ জন বন্দীর সবাই পালিয়ে যায় এবং অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে কিছু বন্দী অস্ত্রসহ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এ ঘটনার পর সাতক্ষীরা, শেরপুর, শরীয়তপুর, জামালপুর, কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারসহ আরো কয়েকটি কারাগারে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বিদ্রোহ শুরু হলে ২০৯ বন্দী দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। বন্দী পলায়ন ঠেকাতে এ সময় কারারক্ষীরা গুলী চালান। এতে সাত বন্দী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একইভাবে জামালপুর কারাগারে কারা বিদ্রোহের ঘটনায় সাত বন্দী নিহত হন। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেও বিদ্রোহ হয়। প্রতিটা কারা বিদ্রোহের ঘটনায় দ্রুত সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।