ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর ঠিক দুই দিন আগেই শেখ হাসিনার সাথে গণভবনে আলোচনায় বসেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, শিক্ষকসহ কর্মকর্তারা। ওই বৈঠকে তারা কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে নেয়াসহ উদ্ভূত পরিস্থিতি শক্ত হাতে মোকাবেলার ঘোষণা দেন।
এ দিন গণভবনে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমসহ ১৩ শিক্ষক। তাদের গণভবনে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। গণভবনে যাওয়া অন্য শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জি এম আল আমিন, আইটি পরিচালক ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, সাবেক প্রক্টর ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ, সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক শওকত জাহাঙ্গীর, সাবেক ছাত্রী হল প্রভোস্ট ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. দীপিকা রানী সরকার, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইসা আহমেদ লিসা, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক কামাল হোসেন, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, ইউজিসি সদস্য ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক জাকির হোসেন, সাবেক সহকারী প্রক্টর ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কে এম সুজাউদ্দীন। তবে গণভবনের যাওয়ার আমন্ত্রণ পেলেও যাননি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির চৌধুরী।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন, যেসব শিক্ষক আমাদের ছাত্রসমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়েছে, তাদের শিক্ষক বলতে আমাদের লজ্জা হয়। এসব শিক্ষক ৩ আগস্ট গণভবনে গিয়ে শেখ হাসিনাকে অভয় দিয়ে এসেছেন। তারা এটি কী ধরনের আচরণ করেছেন ছাত্রসমাজের সাথে? তাদের নৈতিক অবস্থান বিচারের ভার জবির পুরো ছাত্রসমাজের ওপর ছেড়ে দিলাম।
শুধু তা-ই নয়, গণভবনে যাওয়ার এক দিন পরে ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাসে একটি মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের দু’টি গ্রুপ ও স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজ নামে আরেকটি সংগঠন।
ওই মানববন্ধনে আওয়ামী পন্থী শিক্ষকরা ছাত্র-জনতার এক দফা আন্দোলনকে সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে সবাইকে ঘরে ফিরে যাওয়ার কথা বলেন। ৪ আগস্টে ওই মানববন্ধনে দেয়া বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, এই বাংলাদেশে অরাজকতা সৃষ্টি করবেন না। দেশকে যারা আফগানিস্তান বানাতে চান, তাদের ফাঁদে পা দেবেন না। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চান, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে আহ্বান জানান তিনি।
শুধু শিক্ষকরাই নয়। ছাত্রলীগের ট্যাগ ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি নেয়া শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ছাত্র-জনতার এক দফা দাবির বিরুদ্ধে ক্যম্পাসে অবস্থান নেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের ওরফে কাজী মনির, সহকারী রেজিস্ট্রার ও কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দফতরের উপপরিচালক হিমাদ্রি শেখর মণ্ডল ও একই দফতরের সহকারী পরিচালক মঞ্জুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাগর হোসেন, সালাউদ্দিন, আবদুল মালেক, আলতাফ হোসেন, জামাল হোসেন, কামাল হোসেন, সাইদুর রহমান রনি, আবদুল্লাহ আল মামুন, মিলনসহ অনেকে। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে জঙ্গিদের আন্দোলন বলে আখ্যা দেন। যারা আন্দোলন করেছেন তাদের সবাইকে পাকিস্তানের পেতাত্মা হিসেবে অবিহিত করেন তারা।



