অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিল্প, গণপূর্ত ও গৃহায়ান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, দ্রুত সময়ে সংস্কার করে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের অবসান হয়েছে। ফ্যাসিবাদ যেন আবার কখনো ফেরত না আসে সেজন্য সংস্কারের চেষ্টা চলছে। আমাদের কাজটা হচ্ছে যত দ্রুততম সময়ে পারি সংস্কারের কাজটা করা। শুক্রবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক সফিউদ্দিন আহমেদ মিলনায়তনে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
শিল্প উপদেষ্টা বলেন, একটা ফাউন্ডেশন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যে ফাউন্ডেশন নিহতদের পরিবারের দায়িত্ব নিবে, আহতদের চিকিৎসা করবে এবং পরিবারগুলোর পুনর্বাসন করবে।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত দেশে যেন একটি গণতান্ত্রিক অবকাঠামো গড়ে ওঠে। অন্যায়, অবিচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেন অবসান হয়। আমাদের ওপর যারা অত্যাচার করেছে, তাদের মানবাধিকারও রক্ষা করতে হবে। বিচারব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কথা শুনলেন যে চিকিৎসা হচ্ছে না। সারা দেশে কোনো প্রতিষ্ঠান অক্ষত অবস্থায় নাই। ১৬ বছর ছিল ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা। যেটা শাসক না, শাসন ব্যবস্থাটাই ছিল ফ্যাসিবাদী। আমরা চেষ্টা করছি। কঠিন কাজ কিন্তু আমরা ছাত্র-জনতার অধিক্ষেত্রের ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করছি। আমরা সফল হবো এটা বিশ্বাস করি।
মতবিনিময় সভায় সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের পরিচালক নাসিরউদ্দিন এলান, মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি বাছিরউদ্দিন জুয়েল, সহসভাপতি গোলজার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সুজন হায়দার জনি, আইনজীবী আশরাফ-উল-ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক মঞ্জুর মোর্শেদ, সাবেক সভাপতি আরিফ-উল-ইসলাম, মীর নাসির উদ্দিন উজ্জল, শহীদ-ই-হাসান তুহিন, কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন সজল, আবু সাঈদ সোহান, তানভীর হাসান, সোনিয়া হাবিব লাবনী, ভবতোষ চৌধুরী নুপুর, ফয়সাল হোসেন প্রমুখ।
বক্তৃতায় সাংবাদিকরা সাইবার নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক-মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা বন্ধ করা, আইনের ৩৪ ধারা (পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার) বাতিল, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও নাগরিক সাংবাদিকতা বা অনলাইন গণমাধ্যমের স্বীকৃতির দাবি জানান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত তিন শ্রমিক শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকার রিয়াজুল ফরাজী (৩৮), ডিপজল (১৯) ও মো: সজলের (৩০) পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন শিল্প উপদেষ্টা। এ সময় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে সরকারের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারের পুনর্বাসন ও আর্থিক অনুদানের আশ্বাস দেন। পরে বেলা ১১টার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে আইনজীবীদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।



