আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে দুর্বল হয়ে পড়েছে আরাকান আর্মির (এআরএ)। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আরাকান আর্মির প্রধান নবী হোসেনসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আটক হওয়ায় সাংগঠনিকভাবেও অচলাবস্থায় পড়ে গেছে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি। গ্রেফতার হওয়া নবী হোসেন মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন নবী হোসেন গ্রুপের প্রধান। তিনি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা চোরাচালানের হোতা হিসেবে পরিচিত। উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় তার নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে। যার মাধ্যমে তিনি হত্যা, অপহরণ এবং ইয়াবা চোরাচালান করে থাকেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নবী হোসেনকে ধরতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে বিজিবি। নবী হোসেন মূলত রোহিঙ্গা সদস্য। বসবাস করেন মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা মংডু জেলার ডেকুপুনিয়া উপজেলার চাকমাকাটা গ্রামে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ মোস্তফা আহমেদ। নবী হোসেন সশস্ত্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রাক্তন সদস্য এবং আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির (এআরএ) প্রতিষ্ঠাতা। মিয়ানমারে ওই গ্রামে বাঙ্কারের ভেতর লুকিয়ে থাকলেও তিনি মূলত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এবং অস্ত্র-(ইয়াবা) মাদক কারবারি। জনবল নিয়ে সবসময় থাকেন সশস্ত্র অবস্থায়। মিয়ানমার হয়ে টেকনাফ-উখিয়ায় অবৈধ মাদক এবং অস্ত্রব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কয়েকজন সদস্য। নবী হোসেনের সাথে ওই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সরাসরি কানেকশন রয়েছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সদস্য মহিউদ্দিন থাকেন আমেরিকায়। মিয়ানমারের অস্ত্র-মাদক পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা সদস্য পাপ্পু, আতিক, হোসেন, আমব্রু ও ইকবাল। তারা বসবাস করেন মিয়ানমারের মংডুতে। তারা হাজার কোটি টাকার মালিক বলে জানা গেছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ও অস্ত্র-মাদকের চোরাকারবারি আরো চারজন রয়েছেন সৌদি আরব, মালেশিয়া ও ইউরোপে। মূলত অস্ত্র-মাদক নিয়ন্ত্রণে অর্থের জোগানদাতা তারা। নবী হোসেনের মাধ্যমেই মিয়ানমার থেকে অস্ত্র-মাদকের চালান বাংলাদেশে পাচার হয়ে থাকে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নবী হোসেন অবৈধ অস্ত্র-মাদক বিক্রির টাকা সরাসরি বিদেশে থাকা মাফিয়াদের কাছে পাচার করে থাকেন। নবী হোসেন গ্রুপের কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর মহিউদ্দিনের নাম পেলেও তার পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা কিছুই পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও অস্ত্র ও মাদকের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে মালেশিয়া, সৌদি আরব ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে পাচার করে থাকেন নবী হোসেন। এমন তথ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে যেসব অস্ত্র ও মাদক আনা হয়, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ গলিয়ে আসছে। এসব পাচারের ক্ষেত্রে সীমান্তে নিরাপত্তায় থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তারাও জড়িত। শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো: ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকে নবী হোসেন ও তার ছোট ভাইকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মিয়ানমারের সন্ত্রাসী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির (এআরএ) প্রধান নবী হোসেন ও তার ভাইকে অস্ত্র-গুলিসহ আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। শনিবার (৩১ আগস্ট) ভোর রাতে পালংখালী ইউনিয়নের ইরানী পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লক থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, নবী হোসেন (৪৭) ও তার ছোট ভাই সৈয়দ হোসেন ওরফে বুলু (৪৫)। তারা উভয়েই মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা এবং উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ক্যাম্প-৮ ওয়েস্ট এর বি-ব্লকের বাসিন্দা। নবী হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক চোরাচালান ডাকাতিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ১৪ এপিবিএনের উপঅধিনায়ক এসপি আরেফিন জুয়েল জানান, নবী হোসেন ও তার ভাইকে আটকের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল ও ৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।