মিগ-২৯ মামলায় বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তে মিথ্যা সাক্ষ্য না দেয়ায় পদোন্নতি না দেয়াসহ নানাভাবে অপদস্থ করা হয় স্কোয়াড্রন লিডার আ ক ম আখতারুজ্জামান খানকে। বঞ্চিত হয়েও দীর্ঘদিন মুখ খুলতে পারেননি সাবেক এই বিমানবাহিনী কর্মকর্তা। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আখতারুজ্জামান তার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। একই সাথে মিগ-২৯ দুর্নীতির ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।
আওয়ামী লীগের ৯৬-২০০১ মেয়াদে রাশিয়া থেকে যুদ্ধবিমান মিগ-২৯ ক্রয় নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। রাশিয়া থেকে ওই সময় সাত শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে আটটি যুদ্ধবিমান ক্রয় করা হয়। পরে ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগ এনে দুর্নীতির মামলা করা হয়। ওই মামলায় ৯৬-২০০১ সালের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় এলে উচ্চ আদালত শেখ হাসিনাকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। ২০১১ সালের এক রায়ে এই মামলার বাকি পাঁচ আসামিকেও খালাস দেয়া হয়।
স্কোয়াড্রন লিডার আ ক ম আখতারুজ্জামান খান বলেন, ওই সময়ের বিমান বাহিনী প্রধান নিজে দলবল নিয়ে রাশিয়া গিয়ে জঙ্গি বিমানগুলো সংগ্রহ করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এ বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরই দায়ভার অন্যের ঘাড়ে চাপানোর জন্য দ্রুত তৎকালীন এয়ার কমোডোর জিয়ারতের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত টিম গঠন করা হয় বাহিনীর পক্ষ থেকে। এই তদন্ত টিম এয়ার কমোডোর তালুকদার, গ্রুপ ক্যাপ্টেন কিবরিয়া ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন নাসিমের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে। এই ঘটনার একমাত্র সাক্ষী হিসেবে রাখা হয় স্কোয়াড্রোন লিডার আ ক ম আখতারুজ্জামান খানকে। তদন্তকালে বিমানবাহিনী প্রধানের দফতর থেকে টাইপ করা একটি লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর করার জন্য তদন্ত কমিটির সভাপতি এয়ার কমোডোর জিয়ারত সাক্ষীকে নির্দেশ দেন। আখতারুজ্জামান বলেন, বক্তব্যটি স্বাক্ষর করিয়ে তারা চেয়েছিল তিন সিনিয়র কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুতির মাধ্যমে বিমানবাহিনী প্রধান নিজে ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়মুক্ত করা। আখতারুজ্জামান তখন পরবর্তী পদবি উইং কমান্ডার পদোন্নতির জন্য অপেক্ষমাণ ছিলেন। তিনি যখন ওই মিথ্যা সাক্ষ্যে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান তখন তাকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়; ভয়ভীতি দেখানো হয়। মিথ্যা সাক্ষী না দেয়ার পরেও ওই তিন কর্মকর্তার মধ্যে এয়ার কমোডোর তালুকদারকে নিম্ন পদবিতে সামরিক গোয়েন্দা বিভাগে এবং অপর দুই কর্মকর্তাকে নিম্ন পদবিতে মতিউর রহমান ঘাঁটি যশোরে বদলি করা হয়েছিল। পরে ওই তিন কর্মকর্তা বিমান সদরে ফিরে এসে সাধারণ নিয়মে অবসর গ্রহণ করেন।
এ দিকে আখতারুজ্জামানকে অন্যত্র বদলি করা হয়। পরে তার পদোন্নতি স্থগিত করা হয়। তার ইউএন মিশন বন্ধ করে দেয়া হয়। বিদেশে কোনো উন্নত প্রশিক্ষণে পাঠানো বন্ধ করা হয়। চাকরির বয়স থাকার পরেও ২০০১ সালের ৩০ আগস্ট অবসরে পাঠানো হয়। আখতারুজ্জামানকে অবসরকালীন পেনশন মঞ্জুর করলেও প্রত্যাশিত পরবর্তী পদোন্নতিগুলো থেকে বঞ্চিত করা হয় এর বাইরেও মানসিকভাবে যন্ত্রণা দেয়া হয়, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দুই বছরের জ্যৈষ্ঠতা দেয়া হয়নি, এমনকি ডিওএইচএসের প্লট থেকেও বঞ্চিত করা হয়। আখতারুজ্জামান তার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। একই সাথে এই মামলাটি পুনরায় চালু করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মিগ-২৯ দুর্নীতি মামলা
মিথ্যা সাক্ষ্য না দেয়ায় বঞ্চিত স্কোয়াড্রন লিডার আখতারুজ্জামান
মিগ-২৯ মামলায় বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তে মিথ্যা সাক্ষ্য না দেয়ায় পদোন্নতি না দেয়াসহ নানাভাবে অপদস্থ করা হয় স্কোয়াড্রন লিডার আ ক ম আখতারুজ্জামান খানকে। বঞ্চিত হয়েও...



