ঠাকুরগাঁও সীমান্তে গুলি করে হত্যার পর ভারতে নিয়ে যাওয়া কিশোর জয়ন্তর (১৫) লাশ দুই দিন পর ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ বাংলাদেশের বিজিবি ও পুলিশের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। লাশ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএসএফ ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে জয়ন্তর লাশ তার চাচা বাবুল চন্দ্র সিংহের কাছে হস্তান্তর করেন।
লাশ হস্তান্তরের সময় ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হীরক বিশ্বাস, বিএসএফের ডিংগাপাড়া ১৫২ বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সন্তোষ সিং এবং বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বালিয়াডাঙ্গী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী ও বিজিবির ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের ধনতলা বিওপির কম্পানি কমান্ডার মোজাম্মেল হক।
এর আগে, গত ৮ সেপ্টেম্বর রোববার মধ্যরাতে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সীমান্তের দালাল মিস্টার, দুলাল ও কাজির উদ্দীনের নেতৃত্বে কিশোর জয়ন্ত ও তার বাবা মহাদেবসহ ১৬ সদস্যের একটি দল উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের কান্তি ভিটা সীমান্তের মেইন পিলার ৩৯২/৪ এস এর পাশ দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় তারা ভারত সীমান্তের কাছে পৌঁছলে ভারতীয় ডিংগাপাড়া ১৫২ বিএসএফ ক্যাম্পের জোয়ানরা কয়েক রাউন্ড গুলি করলে ঘটনাস্থলেই গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় জয়ন্ত। জয়ন্তর নিথর দেহ টেনে হিঁচড়ে আনতে গেলে আবারো গুলি কের বিএসএফ। এতে গুলিবিদ্ধ হয় জয়ন্তর বাবা মহাদেব ও দরবার আলী। এ সময় তারা জয়ন্তকে ফেলে রেখেই চলে আসেন। পরে জয়ন্তর লাশ ডিংগাপাড়া ক্যাম্পে নিয়ে যায় বিএসএফ। গুলিবিদ্ধ জয়ন্তর বাবা মহাদেব কুমার সিংহ (৪৫) ও দরবার আলী (২৮) রংপুরের অজ্ঞাত কোনো স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ কবির বলেন, ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন ৫০ বিজিবির ধনতলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রাত ১টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ আমাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং রাতেই লাশের সৎকার করেছেন স্বজনরা।
ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজির আহমদ জানান, বাংলাদেশ বিজিবির পক্ষ থেকে এ ঘটনায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতের বিএসএফকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। আমরা ভারতের হাইকমিশন পর্যন্ত এর নিন্দা জানিয়েছি এবং পরে সীমান্তে বিচার বহির্ভূত এ ধরনের হত্যাকাণ্ড এড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে তাদের।