ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি ৩৬টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ১৩ জন প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জামায়াত জোটব্ধভাবে জমা দিলেও বিএনপির প্রার্থীরা এককভাবে জমা দিয়েছেন। জোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন, এনসিপির দু’জন, শহীদ পরিবারের মধ্যে একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জাগপার একজন করে। আর স্বতন্ত্রদের কোটায় একজনের মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে বলে ইসি থেকে জানা গেছে।
বুধ ও বহস্পতিবার মনোনয়নপত্র বাছাই। ২৯ এপ্রিল প্রত্যাহারের সময় শেষ হবে। বিকেলে রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর জানায়, সবাই মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বুধ ও বৃহস্পতিবার বাছাই হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের সম্মেলনকক্ষে ইসি সচিব আখতার আহমেদের উপস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসার মো: মঈন উদ্দিন খানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং মতিউর রহমান আকন।
বিএনপির মনোনীত ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন প্রথম দিনই জমা দেন। সোমবার দেন একজন। বিএনপির প্রার্থীরা হলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা: ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুন রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, মোছা: সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মাৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোছা: সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোছা: সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
জামায়াতের প্রার্থীরা হলেন- নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য সংস্কৃতিক বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী) সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা) ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি নারী অধিকার আন্দোলন) ও রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।
এনসিপির দুজন হলেন- মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা: মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব)। এ ছাড়া ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা) ও ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।
মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য নমিনেশন পেপার সাবমিট করেছে। জামায়াত আটটি, এনসিপি দু’টি, শহীদ পরিবার একটি, খেলাফত মজলিশ একটি, জাগপা একটি।
তিনি বলেন, নারীরা বিরোধী দলের কাতারে বসে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবেন। ১১ দল আমরা একসাথে আন্দোলন করেছি। বিরোধী দলে আছি। রাজপথেও প্রয়োজনে একসাথে থাকব। গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়ার প্রতিবাদে প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, পার্লামেন্টে আমাদের যে ভূমিকা ও নীতি আমরা প্রকাশ করেছি, সেটা হচ্ছে সকল ন্যায়সম্মত কাজে, জনকল্যাণকর কাজে এবং দেশের স্বার্থে আমরা জনগণের সাথে ইতিবাচক ভূমিকা রাখব। এটা আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান এটা ঘোষণা করেছেন শুরুতেই।
গণভোট বিষয়ে তিনি বলেন, এই গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হওয়ার কথা। এটা না হওয়াতে আমরা ১১ দল একসাথে সরকারের জনরায় উপেক্ষা করার প্রতিবাদে এবং এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদে পার্লামেন্টে যেমন রোল প্লে করেছি। পার্লামেন্টের বাইরেও আমরা রাজপথে কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। সে ব্যাপারে আমরা সামনেও ভূমিকা রাখব।
মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, এই মনোনয়নটা অত্যন্ত সুন্দরভাবে চিন্তাভাবনা করে দেয়া হয়েছে। এখানে প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয় করা হয়েছে। আমরা আশা করি এই সমন্বয় পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংসদে আমরা সবাই আসতে পেরে আজকে ধন্য। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা সংসদ। ১৭ বছর পরের এই সংসদ গণতন্ত্র উত্তরণে এবং বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করবে এবং আমরাও কাজ করব।






