গত ১ অক্টোবর ইউল্যাবের ক্যাম্পাসে ইংরেজি ও মানবিক বিভাগের উদ্যোগে ‘হিউম্যানিটিজে দায়িত্বশীল গবেষণা ও প্রকাশনা’ শীর্ষক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান গবেষক ও অ্যাকাডেমিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।  
এই আয়োজনের আহ্বায়ক ইউল্যাবের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু সালেহ মোহাম্মদ রাফি আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন। গোলটেবিল বৈঠকে গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ও গুণগত মান থেকে শুরু করে প্রকাশনার মাধ্যম নির্বাচন, সাইটেশন চর্চা, লেখকত্ব (অথরশিপ) ও মেন্টরশিপ, জেনারেটিভ এআই, গবেষণা মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশদভাবে আলোচিত হয়। 
ইউল্যাবের ভিসি প্রফেসর শামসাদ মর্তুজা উদ্বোধনী বক্তব্যে ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা সংস্কৃতির পরিবর্তনশীল রূপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইংরেজি ও মানবিক শাস্ত্রে অতীতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গবেষণাচর্চার প্রচলন কম থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে ফলিত ভাষাবিজ্ঞানে গবেষণা প্রকাশনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বিভিন্ন র‌্যাংকিং বাণিজ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রত্যাশার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর কিভাবে অযাচিত চাপ তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে জানান, একই সাথে ভুয়া বা ‘প্রেডেটরি’ জার্নালে প্রকাশনা, সাইটেশন কেনা এবং অ্যাফিলিয়েশন বেচাকেনার মতো নৈতিকতাহীন চর্চা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। তিনি গবেষকদের ইন্টারডিসিপ্লিনারি গবেষণা চর্চার মাধ্যমে মানসম্মত কাজ বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। 
আলোচনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শায়লা সুলতানা বলেন, গবেষণার আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধান ও ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, মানব অস্তিত্বকে বোঝা এবং বিদ্যমান জ্ঞানকে নতুন করে অনুধাবনে গবেষণার ভূমিকা অপরিহার্য। নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ড. নাজিয়া মনজুর বলেন, গবেষণার কাজ হলো প্রচলিত প্রতিষ্ঠিত ধ্যানধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং সামাজিক উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করা। বিজ্ঞপ্তি।