পাখি ধরতে কিল্লাঘরের ফাঁদ বানিয়েছে শিকারিরা। তা থেকে রক্ষা পেয়ে বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১০১টি পাখি ফিরে পেল তাদের মুক্ত জীবন। শিকারিদের হাত থেকে উদ্ধার করে এসব পাখি অবমুক্ত করে দিয়েছেন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা।

সোমবার ভোরে পরিবেশকর্মী সাইফুল ইসলাম ও হাসান ইমামের নেতৃত্বে বিয়াস ও ঠেঙ্গাপাকুরিয়া বিলে অভিযানে যান চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা। প্রায় ৩ কিলোমিটার কাদা-পানি মাড়িয়ে ধানক্ষেত থেকে পাখিসহ তিনজন শিকারিকে আটক করেন পরিবেশকর্মীরা। পরে তাদেরকে বিয়াস বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করেন।

আটকরা হলেন পাশের তাড়াশ উপজেলার পলাশী গ্রামের শাহাদৎ হোসেন (৪০), মহাতাব প্রামাণিক (৪৫) ও দীঘরিয়া গ্রামের নাজমুল ইসলাম (৩৫)।

সিংড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: রকিবুল হাসান তিন শিকারিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে প্রত্যেককে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। উদ্ধারকৃত পাখিগুলো সকাল সাড়ে ১০টায় চলনবিল গেট এলাকার একটি পাখি কলোনিতে অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি হাসান ইমাম, সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী জুলহাস কায়েম, খান মো: শারফুল ইসলাম খোকন, জুবায়ের হক, আবু বকর সিদ্দিক, আবু কাহার প্রমুখ।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্ষার শেষভাগে চলনবিলে মাছের সাথে পাখির আনাগোনা বেড়ে গেছে। এমন সময় বিলের ধানক্ষেতে কলা-খেজুরপাতা দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি কিল্লাঘর নামক ফাঁদ পেতে শত শত পাখি শিকারে মেতে উঠেছে কিছু লোভী শিকারি।

সোমবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চলনবিলের বিয়াস ও ঠেঙ্গাপাকুরিয়া থেকে শতাধিক পাখিসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। একইসাথে শিকারিদের বানানো পাঁচটি কিল্লাঘর ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানান তিনি।