বিসিআইসির অন্যতম প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড (কেপিএম) প্রয়োজনীয় পাল্প ও কারিগরি ত্রুটির কারণে কাগজ উৎপাদন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। বছরের অর্ধেক সময় বিভিন্ন সমস্যার বেড়াজালে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। গত ২০ জুলাই থেকে কারখানায় কাগজ উৎপাদন বন্ধ ছিল। দুই মাস বন্ধ থাকার পর বুধবার রাত আটটায় মিলটি আবার চালু করা হয়েছে। বুধবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৮ মেট্রিক টন কাগজ উৎপাদন হয়েছে বলে মিল ব্যবস্থাপনা সূত্রে জানা গেছে। মিলের উৎপাদন বন্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।
মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সূত্রে জানা যায়, ১৯৫১ সালে পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এর অধীনে কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী নদীর পাড়ে কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড (কেপিএম) প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরুতে মিলের দৈনিক একশত ১০ মেট্টিকটন কাগজ উৎপাদন করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়। ধারাবাহিকভাবে কয়েক বছর কোটি কোটি টাকা মুনাফা করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে কেপিএমের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল সিবিএ শ্রমিক সংগঠনের যোগসাজশে অনিয়ম, দুর্নীতি, গাফলতি, অব্যবস্থপনা ও সিস্টেম লস-সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। অব্যাহত লোকসানে মিলটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ২০১৭ সাল থেকে স্থানীয় উৎপাদিত কাঁচামাল নরম কাঠ (পাল্পউড) ও কাঁচামাল বাঁশ এর মন্ড দিয়ে কাগজ উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। তৎসময় থেকে বিদেশী পাল্প ও ছেঁড়াকাগজ দিয়ে অদ্যাবদি মিলের উৎপাদন কোনোমতে সচল রাখা হয়েছে বলে শ্রমিকরা জানিয়েছেন।
মিলের শ্রমিক সংগঠন সিবিএ এক নেতা বলেন, ৭৩ বছরের পুরাতন কারখানা হওয়া সত্বেও কেপিএম উৎপাদিত কাগজ গুণ ও মানের দিক দিয়ে এখনো দেশ সেরা কাগজ শিল্পকারখানা
হিসেবে সর্বত্র পরিচিত রয়েছে। প্রভাব কাটিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র সিন্ডিকেট করে মিলকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করেছে। সেই চক্রটি এখনো সক্রিয় আছে। মিলকে বাঁচাতে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।