- ব্লকে বিএটিবিসির শত কোটি টাকার বেচাকেনা
- চট্টগ্রামে ২২২ কোটি টাকার লেনদেন

ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ফলে পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটা আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশায় প্রাপ্তি ঘটছে না। একধরনের শঙ্কায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। মুুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতায় শেয়ার বিক্রিতে ঝুঁকেছে বিনিয়োগকারীরা। এতে বিক্রির চাপে পুঁজিবাজার। অন্য দিকে শত শত কোম্পানির শেয়ারের কোনো ক্রেতা পাচ্ছে না। গতকাল দুই বাজারেই মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। ডিএসইর বাজারমূলধন কমেছে ০.৬১ শতাংশ। তবে ডিএসইর ব্লক মার্কেটে বিএটিবিসির ১০০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার বেচাকেনা হয়েছে। ২১৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেনে রেকর্ড করেছে ব্লক মার্কেট। চট্টগ্রাম স্টকেও গতকাল ২২২ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে বলে দুই স্টকের তথ্য থেকে জানা গেছে।
লেনদেনের তথ্য থেকে বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় প্রতিদিনই বাজার শুরুই হয় নেতিবাচক প্রবণতায়। তার পর ধীরে ধীরে বাজার বড় উত্থানের পথে থাকলেও নানা ধরনের গুজব ও বড় বড় কয়েকটি হাউজ থেকে বড় আকারে সেল প্রেসারের চাপে উত্থানের বাজার পতনের বৃত্তে আটকে যায়। গতকাল দিনের লেনদেনের সূচনা থেকেই ডিএসইর সূচকের গতিপথে অস্থিরতা দেখা যায়। এই কিছুক্ষণ সূচকের বৃদ্ধির গতি আবার হঠাৎ করেই পতনের পথ ধরে। দিনের সর্বনিম্ন সার্কিট ব্রেকারে এসব শেয়ারের লাখ লাখ শেয়ারের সেল অফার দেখা যায়।
ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ১৪.৮০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৮৫.৭৭ পয়েন্টে, ‘ডিএসইএস’ বা শরিয়াহ সূচক ৩.৯০ পয়েন্ট কমে এক হাজার ২১৭.০৯ পয়েন্টে এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক ০.৬৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮৭.৪৬ পয়েন্টে নেমে আসে। ডিএসইতে ১৯ কোটি ৬৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩৪২টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে মোট ৭৫০ কোটি ২৪ লাখ চার হাজার টাকা বাজারমূল্যে। গত রোববার লেনদেন হয়েছিল ৫৫৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। ফলে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩১টির, দর কমেছে ২৩১টির এবং ৩৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৭টির মধ্যে দর বেড়েছে ৫টির, কমেছে ২১টির এবং দর অপরিবর্তিত ১১টির।
এ দিকে ডিএসইর ব্লক মার্কেটে গতকাল ৩০টি কোম্পানির ৯২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৪টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ২১৫ কোটি ৫৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে যে ছয় প্রতিষ্ঠানের সেগুলো হলো- ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো, রেনাটা লিমিটেড, যমুনা অয়েল, ড্যাফোডিল কম্পিউটারর্স, মিডল্যান্ড ব্যাংক এবং গ্রামীণফোন লিমিটেড। এই ছয় প্রতিষ্ঠানের মোট শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে ২০৬ কোটি ২৩ লাখ টাকারও বেশি। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকোর। কোম্পানিটির ২৪ লাখ ৭৮ হাজার শেয়ার ১০০ কোটি ৪৩ লাখ ৭ হাজার টাকায়, রেনাটা লিমিটেডের আট লাখ ৪০ হাজার শেয়ার ৬৩ কোটি ৯৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায়, যমুনা অয়েলের ১০ লাখ ৯৯ হাজার ১১৮টি শেয়ার ২২ কোটি ৮০ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় এবং ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের ১৮ লাখ ৩৪ হাজার ৭৩টি শেয়ার ১৫ কোটি ৪৮ লাখ ১৭ হাজার টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। আর মিডল্যান্ড ব্যাংকের ২ কোটি ৭৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকার এবং গ্রামীণফোন লিমিটেডের ৭৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
আর চট্টগ্রাম স্টকের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হারিয়েছে সিএএসপিআই ১০৬.৯৫ পয়েন্ট। এ ছাড়া সিএসই-৩০ সূচক ৫.০৬ পয়েন্ট এবং সিএসসিএক্স কমেছে ৬৪.৪২ পয়েণ্ট। লেনদেন হওয়া ২১৯টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৫৩টির, দর হারিয়েছে ১৫১টি এবং দর অপরিবর্তিত ১৫টি। এক কোটি ১৪ লাখ ২ হাজার ৬৮৭টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে মোট ২২২ কোটি ৮৯ লাখ ৯৭ হাজার ৮১৮ টাকা বাজার দরে। রোববার সাড়ে ২৯ কোটি টাকার শেয়ার বেচাকেনা হয়।
বাজার বিশ্লেষক রয়্যাল ক্যাপিটাল বলছে, মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতায় সূচকের পতন, তবে বৃদ্ধি পেল লেনদেন। বেলা ১১ টার দিকে বাজার ইতিবাচক থাকলেও দিনশেষে মূল্যসূচক ১৫ পয়েন্ট হারিয়েছে। তবে, লেনদেনের পরিমাণ ৭৫০ কোটি টাকা; যা গত দিনের তুলনায় ১৯২ কোটি টাকা বেশি। বাজার সূচক সার্বিকভাবে দোদুল্যমান ছিল এবং বিক্রেতারা ক্রেতাদের তুলনায় বেশি সক্রিয় ছিল। গতকালও আর্থিক খাতে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল এবং শুধু টেক্সটাইল খাতের সেক্টর রিটার্ন ইতিবাচক ছিল। ডিএসইএক্স নিম্নমূখী ছিল এবং মূলধন গতদিনের তুলনায় ০.৬১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যেখানে, ভলিউম ৫ শতাংশ কমেছে এবং টার্নওভার ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। ১৯টি সেক্টরের মধ্যে ৭ টি সেক্টরের বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ১২ টি সেক্টরের বাজার মূলধন হ্রাস পেয়েছে। সারাদিন মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলেও দিনশেষে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বাজার শেষ হয়েছে।