- দর পতনের শিকার ৭৩.২৯ শতাংশ কোম্পানি
- আটটি খাতে শেয়ারের কোনো ক্রেতা ছিল না

বিক্রির চাপে পুঁজিবাজার। ক্রেতাও কম। তারপরও হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে ঢাকা স্টকে। ৭৩.২৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতনের শিকার। মূল্য সূচক সংশোধন হয়েছে। আগের দিনের মতোন গতকালও বাজারে বিক্রির চাপ অব্যাহত ছিল। সূচকের বর্তমান অবস্থান সাময়িক সংশোধনকে নির্দেশ করলেও এর স্থায়িত্ব নির্ভর করছে লেনদেনের গতি ধরে রাখার ওপর। ডিএসইএক্স ২৫ পয়েন্ট হারানোর বিপরীতে লেনদেন বেড়েছে ১৩২ কোটি টাকা। ডিএসইতে আটটি খাতে শেয়ারের কোনো ক্রেতা ছিল না। বাজার মূলধন কমেছে ০.৪৩ শতাংশ।

লেনদেনের তথ্য থেকে দেখা যায়, শুরুতেই সূচকের গতিপথে চলে উত্থান আর পতন। লেনদেন শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। লেনদেনের শেষদিকে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি কমেছে প্রধান সূচক। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ২৯১টি প্রতিষ্ঠানের। আর ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দুইটি সূচক পয়েন্ট হারালেও ডিএসই-৩০ সূচক কিছু পয়েন্ট পেয়েছে। ডিএসইএক্স ২৫.৬৬ পয়েন্ট ও শরীয়াহ সূচক ৯.০৭ পয়েন্ট হারায়। আর ডিএসই-৩০ ৫.২৭ পয়েন্ট বেড়েছে। ২৮ কোটি ৫৮ লাখ ৪১ হাজার ৫৬৬টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড বেচাকেনা হয়েছে এক হাজার ৬৫ কোটি ৫৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। আগের দিনের তুলনায় ১৩২ কোটি টাকা বেশি হয়েছে লেনদেন।

আর ডিএসইর ব্লক মার্কেটে গতকাল ৩৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ৬৯ লাখ ২৪ হাজার ৫৯২টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে মোট ৩৭ কোটি ৪৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ছয় কোম্পানি হলো তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্সুরেন্স, স্কয়ার ফার্মা, লাভেলো আইসক্রিম এবং আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। এ ছয় প্রতিষ্ঠানের মোট শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি এক লাখ টাকারও বেশি। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের। কোম্পানিটির ছয় কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সের ছয় কোটি ২০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তিন কোটি ৬৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে রূপালী লাইফ ইন্সুরেন্স।

অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে স্কয়ার ফার্মার তিন কোটি আট লাখ ২০ হাজার টাকার, লাভেলো আইসক্রিমের দুই কোটি ৫৯ লাখ ১৩ হাজার টাকার এবং আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির দুই কোটি ৫২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টকেও দু’টি সূচক পতনের শিকার। একটি বেড়েছে। সিএসসিএক্স ১৩.৯১পয়েন্ট এবং সিএএসপিআই ৩১.১৫ পয়েন্ট কমেছে। আর সিএসই-৩০ সূচক ৩৫.০৫ পয়েন্ট ফিরেছে। ২৫৯টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিলেও দর বেড়েছে মাত্র ৭৯টির, দর পতনে ১৫৬টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির। ৪৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৫টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে মোট ১৬ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার ৪১৯ টাকায়।

রয়্যাল ক্যাপিটাল গতকালের বাজার পর্যালোচনায় বলছে, ঢাকার শেয়ার বাজারের প্রধান সূচক (ডিএসইএক্স) নিম্নমুখী ছিল। মূলধন আগের দিনের তুলনায় ০.৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যেখানে ভলিউম ১৪ শতাংশ এবং টার্নওভার ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ১৯ টি সেক্টরের মধ্যে দু’টি সেক্টরের বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৭টি সেক্টরের বাজার মূলধন হ্রাস পেয়েছে। ফ্লোর প্রাইসে একটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ব্লক মার্কেটে ৩৭.৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ৩.৫১ শতাংশ।
এসএমই বাজার সূচক (ডিএসএমইএক্স) ২৯.৬ পয়েন্ট কমে এক হাজার ২২৭.৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩.৫ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ৪৪ শতাংশ কম। গতকাল সারা দিন মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলেও দিনশেষে নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে বাজার শেষ হয়েছে।